জেডটিভি বাংলা ডেস্ক :
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট একটি চিরস্থায়ী সমস্যা। তবে এবার খুলনার পশুর নদী সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের মাটির গভীরে দুটি বিশাল মিঠা পানির খনি সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা এলাকার পানিসংকট কমাতে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণার মূল বিষয়সমূহ:
গবেষণা প্রতিষ্ঠান: কলাম্বিয়া ক্লাইমেট স্কুলের ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরি। প্রকাশিত সাময়িকী: ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’। ‘ডিপ-সেন্সিং ম্যাগনেটো টেলুরিক সাউন্ডিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির কয়েক কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত পরীক্ষা।
মিঠা পানির খনির বিবরণ:
উত্তরাঞ্চল: ২,৬০০ ফুট গভীরে, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ। দক্ষিণাঞ্চল: ৮২০ ফুট গভীরে, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ। পানি জমা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার বছর আগে, হিমযুগে বৃষ্টি ও বন্যার মাধ্যমে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট মিঠা পানি রয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ঘনমিটার।
গবেষকদের সতর্কতা:
খনিগুলো থেকে পানি উত্তোলন করতে হলে সুপার পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। অপরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত পানি তোলার ফলে ওপরে থাকা লবণাক্ত পানি নিচে ঢুকে খনিগুলো নষ্ট করতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় কোটি কোটি মানুষের সুপেয় পানির সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব।
গবেষকগণ:
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়: কেরি কি, নাফিস সাজিদ, মার্ক পারসন। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার ভূঁইয়া, মাহফুজুর আর খান, কাজী এম আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যৌথ উদ্যোগে এই আবিষ্কার খুলনা ও সমগ্র বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি সরবরাহের নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
সূত্র: স্টেট অব দ্য প্ল্যানেট