May 22, 2026, 10:49 pm
Headline :
সোনাইমুড়িতে মাদক সিন্ডিকেট বাঁচাতে মরিয়া চক্র: বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে স্থানীয় নেতাকে সোনাইমুড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রেমের টানে সীমানা পার! জামালপুরের লিমার সাথে শেরপুরের মিলনের পরকীয়া নিয়ে তোলপাড়। নোয়াখালীতে সাংবাদিক গুলজার হানিফকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকির সোনাইমুড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: থানায় মামলা মনোনয়ন দৌড়ে নোয়াখালীর তিন নারী নেত্রী: আলোচনায় শাহীনুর সাগর ও শাহনাজ পারভিন বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: শাবানা মাহমুদের পথচলা

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: শাবানা মাহমুদের পথচলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য শাবানা মাহমুদ হয়েছেন দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল আনেন—যেখানে শাবানা মাহমুদের হাতে অর্পিত হয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

মন্ত্রিসভার রদবদল ও স্টারমারের কৌশল

অ্যাঞ্জেলা রায়েনার উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি নতুনভাবে মন্ত্রিসভার আসন বিন্যাস করেন। স্টারমারের ভাষায়, “আমার মন্ত্রিসভায় সঠিক মানুষ রয়েছেন, কেবল তাদের আলাদা চেয়ারে বসানো হয়েছে।”

এই রদবদলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা। কারণ, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অবৈধ অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যা। এ ইস্যুতেই তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি লেবার দলের অভ্যন্তরে পরিচিত।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শাবানা মাহমুদ সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছান। এই চার দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা জোট পরিচিত ‘ফাইভ আইজ’ নামে।

চুক্তির মূল লক্ষ্য: যেসব অভিবাসীর কোনো দেশে বৈধভাবে থাকার অধিকার নেই, তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো, দীর্ঘসূত্রতা বা সহযোগিতার অভাব কমাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ নাগরিকদের ফেরত নিতে অনিচ্ছুক দেশগুলোর জন্য ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি, এর ফলে যুক্তরাজ্যের বার্তা স্পষ্ট—যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানবপাচার

গবেষণায় উঠে এসেছে, ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা প্রায় ৮০ শতাংশ অভিবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অবৈধ যাত্রার বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়েছে। পাচারকারী চক্রের সঙ্গে এই যোগাযোগ ঠেকাতে ফাইভ আইজ দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এখন পাচারকারীদের অনলাইন নেটওয়ার্ক ভাঙতে উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য—যারা ডিজিটাল মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে সহজতর করছে, তাদের শনাক্ত ও দমন করা।

শাবানা মাহমুদের বক্তব্য

দায়িত্ব নেওয়ার পর স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আর আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করা। অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে একযোগে এ সমস্যার মোকাবিলা করব।”

তিনি আরও জানান, লেবার সরকারের পরিবর্তনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

শাবানা মাহমুদ ১৯৮০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদি নিবাস পাকিস্তানে হলেও শৈশবের কিছু সময় তিনি সৌদি আরবে কাটান। পরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে আইন পড়াশোনা করেন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কন কলেজ থেকে সম্মানসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন এবং দায়মুক্তি সংক্রান্ত মামলায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।

রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে, যখন তিনি বার্মিংহাম লেডিউড আসন থেকে লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হন। তখন তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অল্প কিছু মুসলিম নারী সংসদ সদস্যদের একজন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি লেবার পার্টির নীতি-নির্ধারণী পরিসরে জায়গা করে নেন।

তিনি শ্যাডো ক্যাবিনেটে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন—শ্যাডো ফিনান্সিয়াল সেক্রেটারি ও শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি ছিলেন। মাঝখানে কয়েক বছরের বিরতি নিলেও কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।

২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রথমে লর্ড চ্যান্সেলর ও জাস্টিস সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। সেসময় কারাগারে ভিড় কমাতে হাজার হাজার বিচারাধীন আসামিকে আগাম মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল।

অবশেষে ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে উন্নীত হন—এবং যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জায়গা করে নেন।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক মোকাবিলা করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারেন, তবে তিনি শুধু লেবার পার্টির নয়, যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব রাখতে সক্ষম হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *