
নোয়াখালী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নোয়াখালীর তিন জন প্রভাবশালী নারী নেত্রী। তারা হলেন— অ্যাডভোকেট শাহীনুর বেগম (সাগর), ভিপি শাহনাজ পারভিন, হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এই চার নেত্রীই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
১.সংরক্ষিত আসনে আলোচনার শীর্ষে শাহীনুর সাগর: ১৭ বছরের ত্যাগ ও রাজপথের লড়াই
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর বেগম সাগর। গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুম আর হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথ না ছাড়া এই ত্যাগী নেত্রীর পক্ষে জোরালো দাবি তুলছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
কারাগার ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক
অ্যাডভোকেট শাহীনুর বেগম সাগর কেবল একজন কেন্দ্রীয় নেত্রীই নন, বরং গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক। রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে:
কারাবরণ: গত ১৭ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অন্তত ৬ বার গ্রেফতার হয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় জেল খেটেছেন।
মামলা ও হামলা: অসংখ্য রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বারবার হামলার শিকার হয়েও নোয়াখালী ও ঢাকার রাজনীতিতে সমানভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার
ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (২০০১) হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে চমক দেখানো এই নেত্রী বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। তৃণমূলের দাবি
নোয়াখালী জেলা ও সদর উপজেলার সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, শাহীনুর সাগরের মতো একজন ত্যাগী ও সাহসী নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে পাওয়া গেলে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে তার আইন পেশার অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সাথে নিবিড় যোগাযোগ তাকে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: শাহীনুর বেগম সাগর দল ও আদর্শের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে ছয়বার কারাবরণ করার বিষয়টি তাকে হাইকমান্ডের কাছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।”
২. ভিপি শাহনাজ পারভিন নোয়াখালী জেলা মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি শাহনাজ পারভিন জেলা রাজনীতির পরিচিত মুখ। নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক এই ভিপি দীর্ঘ ১১ বছর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৭ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থাকা এই নেত্রী একজন সাবেক অ্যাথলেট এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবেও সমাদৃত।
৩. হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী ও পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কন্যা হাসনা মওদুদও রয়েছেন এই দৌড়ে। তিনি ইতিপূর্বে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে এলাকায় জনসেবা করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের অভিমত: > জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ জানান, “দলের প্রধান ও হাইকমান্ড যাচাই-বাছাই করে যাকে যোগ্য মনে করবেন এবং মনোনয়ন দেবেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার হয়েই কাজ করব।