May 22, 2026, 11:35 pm
Headline :
সোনাইমুড়িতে মাদক সিন্ডিকেট বাঁচাতে মরিয়া চক্র: বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে স্থানীয় নেতাকে সোনাইমুড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রেমের টানে সীমানা পার! জামালপুরের লিমার সাথে শেরপুরের মিলনের পরকীয়া নিয়ে তোলপাড়। নোয়াখালীতে সাংবাদিক গুলজার হানিফকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকির সোনাইমুড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: থানায় মামলা মনোনয়ন দৌড়ে নোয়াখালীর তিন নারী নেত্রী: আলোচনায় শাহীনুর সাগর ও শাহনাজ পারভিন বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা

নেপালে তরুণদের বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: কেন ফুঁসে উঠল জেন জি প্রজন্ম?

নেপালে তরুণদের বিক্ষোভে র'ক্তক্ষয়ী সংঘ'র্ষ: কেন ফুঁসে উঠল জেন জি প্রজন্ম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে যে তরুণদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। অন্তত ১৯ জন নিহত, শতাধিক আহত এবং পুরো রাজধানীজুড়ে কঠোর কারফিউ—এটাই বর্তমানে নেপালের পরিস্থিতি। নিহতদের মধ্যে এক ১২ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু দেশজুড়ে আরও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

সংঘর্ষের সূচনা: সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

গত সপ্তাহে নেপাল সরকার একসঙ্গে ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখো তরুণ-তরুণী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
সরকার যুক্তি দেখায়—ভুয়া খবর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলার জন্য এ সিদ্ধান্ত জরুরি। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মতে, সরকারের এ পদক্ষেপ কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিতই করেনি, বরং শিক্ষার, ব্যবসার ও বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মগুলোও কেড়ে নিয়েছে।

বিক্ষোভে জেন জি প্রজন্মের ডাক

সোমবার রাজধানীর পার্লামেন্ট ভবনের সামনে সমাবেশের ডাক দেয় জেন জি তরুণরা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন—

  • “এনাফ ইজ এনাফ” (ঢের হয়েছে)
  • “এন্ড টু কোরাপশন” (দুর্নীতি শেষ হোক)

২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউজান রাজভান্ডারী এএফপিকে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদই প্রথম কারণ ছিল, তবে আসল লড়াই দুর্নীতি ও সরকারের আধিপত্যবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে।”
অন্যদিকে ইকশামা তুমরোক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের প্রজন্ম পরিবর্তন দেখতে চায়। আগের প্রজন্ম অন্যায় সহ্য করেছে, কিন্তু আমরা চাই আমাদের সময়েই তার অবসান হোক।”

সহিংসতায় রূপ নেয় বিক্ষোভ

দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের সুরক্ষিত অংশে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
নেপালের যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা বিবিসিকে জানান, “পরিস্থিতি এমন হয়ে গিয়েছিল যে বল প্রয়োগ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।”

কারফিউ জারি: শহরজুড়ে সামরিক উপস্থিতি

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। এর মধ্যে ছিল—

  • পার্লামেন্ট ভবন
  • প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ (শীতল নিবাস)
  • ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবন
  • প্রধানমন্ত্রী’র সরকারি বাসভবন (বালুওয়াটার)
  • সিংহ দরবার ও আশপাশের প্রশাসনিক এলাকা

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত বলেন, “কারফিউ ঘোষণার পর সীমিত পরিসরে সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।”

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

কেবল রাজধানী নয়, অন্যান্য অঞ্চলও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় পোখরায় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও কারফিউ জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন।

পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার নজির

নেপালে এটি প্রথম ঘটনা নয়।

  • ২০২৪ সালের জুলাই: টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্লক করা হয় অনলাইন জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে।
  • টিকটক নিষিদ্ধ: বিধিনিষেধ মানতে ব্যর্থ হওয়ায় টিকটককেও সাময়িকভাবে ব্লক করা হয়েছিল, পরে প্রত্যাহার করা হয়।
  • এবার আরও বড় পরিসরে একসঙ্গে ২৬টি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।

জনমনে প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ কী?

সরকার বলছে তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে চায় না, বরং বিদ্যমান আইন মানতে বাধ্য করতেই এ ব্যবস্থা। তবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির পর শোনা যাচ্ছে—সরকার হয়তো এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নেপালের তরুণ প্রজন্মের জমে থাকা ক্ষোভ—দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—এই বিক্ষোভে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এ আন্দোলন হয়তো এক নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *