নিজস্ব প্রতিবেদক, নবাবগঞ্জ (ঢাকা):
স্থানীয় পর্যায়ে আইনি সেবা সহজীকরণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের জন্য দুই দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের সহায়তায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম আদালত দেশের গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের দক্ষতা ও সক্রিয়তা বাড়লে জনগণ সহজেই স্বল্প ব্যয়ে ন্যায়বিচার পাবে এবং উচ্চ আদালতের মামলার জট কমবে। এই প্রশিক্ষণ তাদের দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ করে তুলবে।”
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষের সময়, আর্থিক ব্যয় এবং হয়রানি কমে যায়, যা গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রহমান, সমাজসেবা অফিসার মোঃ সবুজ আলী, গ্রাম আদালত ৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মোঃ আল-ফারুক গাজি।
তারা গ্রাম আদালতের আইন, মামলার ধরণ, সালিশ পদ্ধতি, মামলা নিষ্পত্তির ধাপ, রেকর্ড সংরক্ষণ, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের করণীয়, গ্রাম আদালতের ফর্ম ব্যবহারের নিয়ম এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান ও নারী–পুরুষ সদস্যরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, গ্রাম আদালত সম্পর্কিত বাস্তব জ্ঞান গ্রহণ তাদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
একজন অংশগ্রহণকারী সদস্য বলেন, “আগে গ্রাম আদালতের কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা অনেক কিছুই জানতাম না। এই প্রশিক্ষণ আমাদের অনেক বিভ্রান্তি দূর করেছে।”
প্রশিক্ষণ সফল করতে মাঠ পর্যায়ের সমন্বয় ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাজমা আক্তার এবং মোঃ জহিরুল ইসলাম। তারা অংশগ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশন, ডকুমেন্টেশন, প্রশিক্ষণ সামগ্রী বিতরণ এবং সেশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প সারা দেশে গ্রামীণ জনগণের সহজলভ্য আইনি সেবা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন প্রশিক্ষণার্থীরা ।