নিজস্ব প্রতিবেদক :
জয়পুরহাটের সদর উপজেলা চিরলা গ্রামে গভীর রাতে এক নারীকে হত্যা ও তার ভাতিজিকে গুরুতর আহত করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে চকবরকত ইউনিয়নের চিরলা গ্রামে একই ঘরে ঘুমিয়ে থাকা নুরুন্নাহার বেগম (৪৫) নিহত হন এবং তার ভাতিজি খাদিজা (১৫) আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যরা পাশের ঘরে থাকলেও কোনো শব্দ শুনতে পাননি, যা ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। ঘটনার পরপরই সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন ও সদর থানার ওসি নাজমুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ঘরে ঢুকে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে হামলা চালায়।
নিহত ও আহত
নিহত: নুরুন্নাহার বেগম (৪৫), চিরলা গ্রামের আব্দুল গফুরের প্রাক্তন স্ত্রী
আহত: খাদিজা (১৫), দশম শ্রেণির ছাত্রী, আব্দুল মতিনের মেয়ে—বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ।
নুরুন্নাহারের ভাবী মীম আক্তার বলেন, রাত ৯টার দিকে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাতে নুরুন্নাহার ও খাদিজার ঘর থেকে ভারী শ্বাস নেওয়ার শব্দ শুনে দরজা খুলতে গেলে দেখেন বাইরে থেকে সিটকানি দেওয়া। পরে স্বজনরা এসে দরজা খুলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিৎকার শুনে বাড়িতে গিয়ে দেখেন নুরুন্নাহার বিছানায় নিথর পড়ে আছেন এবং খাদিজা মেঝেতে। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও নুরুন্নাহার আগেই মারা যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, “নুরুন্নাহার ও খাদিজার ঘরে সুকৌশলে ঢুকে টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। খাদিজা গুরুতর আহত। ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক—কী কারণে বা কারা এ হামলা করেছে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।” এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।