অনলাইন ডেস্ক :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করার ঘটনায় এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী মামলায় বৃহস্পতিবার সিআইডির আলোকচিত্র বিশেষজ্ঞ গোলাম ইফতেখার আলম সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চ, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এর সামনে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ইফতেখার এই মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতের যাচাই-বাছাইয়ের বিবরণ দেন। পরে তাকে পলাতক চার আসামির পক্ষে আইনজীবী আমির হোসেন এবং গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান জেরা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ২ ডিসেম্বর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম সহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। মামলার গ্রেপ্তার আসামি হলেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। অন্য চারজন পলাতক আসামি হলেন: ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ১০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা, হাসপাতালের স্টাফ নার্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণে নিহত আমির হোসেন ও বাসিত খান মুসার পরিবারের হৃদয়বিদারক বিবরণও প্রকাশিত হয়েছে। তাদের পরিবারের সামনে ঘটে যাওয়া নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ট্রাইব্যুনালের সামনে উঠে এসেছে।
মামলার পটভূমি:
১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে ছিলেন কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেন। ৩১ জুলাই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়।