November 30, 2025, 11:01 pm
Headline :
খাগড়াছড়িতে জিয়া সৈনিক দলের দোয়া মাহফিল খুলনায় আদালত চত্বরে গুলিতে দুইজন নিহত পারস্য উপসাগরে লাখ লাখ লিটার জ্বালানি বোঝাই বিদেশি জাহাজ জব্দ করল ইরান ৩২ বলে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি অভিষেকের, ছক্কায় নতুন রেকর্ড আমি আশ্বাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না: জামায়াত আমির জি এম সুমনের উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিপিএল নিলাম আজ: সব তথ্য এক নজরে আমি সমস্ত নিয়ম ভেঙেছি” – বললেন আমির খান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজিবাজার প্রশিক্ষণের পথ খুললো বিএএসএমের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে

প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ – ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনকে আসামি করে তিনটি “প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি” মামলায় রায় ঘোষণা করেন। প্রতিটি মামলায় ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়ায় মোট কারাদণ্ড দাঁড়াল ২১ বছরে।

মামলার প্রেক্ষাপট
দুদক অভিযোগ করে, শেখ হাসিনা ও তার ছেলে-মেয়ে রাজধানীতে থাকা সরকারি জমি গোপন রেখে অবৈধভাবে রাজউকের ৩০ কাঠা প্লট নেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তারা রাজউকের আবাসন নীতি লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং মিথ্যা হলফনামা দাখিল করেছেন। মামলাটি চলাকালে আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে হাজির হননি তারা; ফলে ২৩ জন পলাতক অবস্থায় বিচার কার্যক্রম চালানো হয়।

সাক্ষ্য ও বিচার প্রক্রিয়া
মামলায় ৯১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার ছেলেমেয়ে সরকারি জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করেন এবং সরকারি প্লট নেন। শেখ হাসিনা পরিবারের তিনজন ছাড়াও মামলায় আরও ২০ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন মাত্র একজন। কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির হন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

অন্য আসামিরা
শেখ পরিবারের বাইরে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন: সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের বিভিন্ন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান সদস্য ও কর্মকর্তা: মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মো. নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, প্রমুখ। মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যারা বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল ছিলেন।

মামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। এই মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও আসামি করা হয়। মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ৩১ জুলাই ২০২৫।

রায় ও ভবিষ্যত পদক্ষেপ
গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর হাসিনা পরিবারের তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আলাদা আদালতে রেহানা পরিবারের তিনটি মামলা চলমান, যার রায় ১ ডিসেম্বর ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page