November 30, 2025, 11:30 pm
Headline :
খাগড়াছড়িতে জিয়া সৈনিক দলের দোয়া মাহফিল খুলনায় আদালত চত্বরে গুলিতে দুইজন নিহত পারস্য উপসাগরে লাখ লাখ লিটার জ্বালানি বোঝাই বিদেশি জাহাজ জব্দ করল ইরান ৩২ বলে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি অভিষেকের, ছক্কায় নতুন রেকর্ড আমি আশ্বাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না: জামায়াত আমির জি এম সুমনের উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিপিএল নিলাম আজ: সব তথ্য এক নজরে আমি সমস্ত নিয়ম ভেঙেছি” – বললেন আমির খান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজিবাজার প্রশিক্ষণের পথ খুললো বিএএসএমের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে

বিএনপির লক্ষ্য হারানো আসন পুনরুদ্ধার, সব আসনে ভাগ বসাতে মরিয়া জামায়াত

বিএনপির লক্ষ্য হারানো আসন পুনরুদ্ধার, সব আসনে ভাগ বসাতে মরিয়া জামায়াত

জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে ভোট নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ভোটারদের মধ্যে নানা সংশয় ও সন্দেহের দোলাচল থাকলেও রাজনৈতিকভাবে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ ও কর্মীসমাবেশসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে নির্বাচনি মাঠ সরগরম করে তুলছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ছবিসহ শুভেচ্ছার ব্যানার ও পোস্টার টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কর্মীসমাবেশ, জনসভা, গণসমাবেশ, লিফলেট বিতরণ ও উঠোন বৈঠকের পাশাপাশি ধর্মীয় সভায় যোগদানসহ উৎসবে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রার্থীরা।

বিএনপি ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে সদর ও গফরগাঁও বাদে ৯টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিএনপি ৯টি আসনেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করলে অধিকাংশ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। কোথাও কোথাও মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশে করছে। আগামী নির্বাচনে ময়মনসিংহের সবকটি আসনই পুনরুদ্ধার করে এককভাবে নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। জামায়াতও তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আগে থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছে। জামায়াতে ইসলাম ময়মনসিংহের নান্দাইল আসনে আট দলীয় জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে বাকি ১০টি আসনেই তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে।

এনসিপি, এলডিপি, গণঅধিকার, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসসহ অন্য দলও বেশির ভাগ আসনে তাদের প্রার্থীরাও তৎপরতা চালাচ্ছেন। জামায়াতও সর্বশক্তি নিয়োগ করে সব আসনে ভাগ বসাতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ময়মনসিংহের কোনো আসন পায়নি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। নারী, তরুণ, আদিবাসী, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ আওয়ামী লীগের ভোট বাগিয়ে নিতে সব ধরনের কৌশল নিয়েছে জামায়াত ও বিএনপি।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া নিয়ে গঠিত। ময়মনসিংহ-১ আসনে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তার পরও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উত্তর জেলা বিএনপির নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান ওমন খান রুবেল সভা-সমাবেশ, ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, সেতু নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপন, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও চক্ষু শিবির, তারেক রহমানের ৩১ দফার প্রচারণাসহ নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও এলাকার সভা-সমাবেশসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি চায় আসন পুনরুদ্ধার করতে। বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও তৎপর। এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ জেলার সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তা, জাতীয় নাগরিক কমিটি-এনসিপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব সাইফুল্লাহ, চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হচ্ছেন ইসলামী আইনজীবী পরিষদ বাংলাদেশের সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের সহ জোন পরিচালক অ্যাডভোকেট মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এ আসনে গণঅধিকার ও অন্য কোনো দলের প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) : ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসনটি বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। পরিবর্তীতে পরিস্থিতি বিএনপি থেকে এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। কিন্তু সাবেক এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ এ আসনে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করে যাচ্ছেন।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এমপি ও বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য শাহ শহিদ সারোয়ার দলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে তিনিও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানিয়েছে তার অনুসারীরা। এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাহবুব আলম মণ্ডল। গণঅধিকারের সম্ভাব্য প্রার্থী শাহ সুলতান মৃধা ও ওয়াস কুরুনী, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী মুফতি গোলাম মাওলা ভূঁইয়া ও খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা মতিউর রহমান। জাতীয় নাগরিক কমিটি—এনসিপি থেকে কারও নাম শোনা যায়নি এখনো।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) : ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। গৌরীপুরে সাধারণ জনগণ ও দলের বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা কর্মী ও সমর্থকের প্রথম পছন্দ ক্লিন ইমেজের শক্তিশালী ত্যাগী ও পোড়খাওয়া নেতার মূল্যায়ন করবেন বলে জানা গেছে। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির ময়মনসিংহ জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল হক ও দল থেকে বহিষ্কৃত আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরন বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে তৎপর রয়েছেন। দলীয় কোন্দল না থাকায় সুবিধাজনক ও মজবুত অবস্থায় আছে জামায়াত। জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এ আসনে বেশ আগেই। প্রার্থীরা ধর্মীয় সভা-সমাবেশ, সামাজিক ও পারিবারিক আচার অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপির জন্য এ আসন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আসনটি দখলে নিতে জামায়াতও মরিয়া। জামায়াত থেকে এ আসনে একক প্রার্থী হচ্ছেন গৌরীপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরুজ্জামান, জাতীয় নাগরিক কমিটি, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তারিক হোসেন, গণঅধিকার প্রার্থী আজিজুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী মাওলানা আইয়ুব আলী নুরানী, খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা নিজাম উদ্দিন।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) : জেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ সদর আসন। সদর আসনে বিএনপির এখনো মনোনয়ন ঘোষণা হয়নি। আবু ওয়াহাব আকন্দের নাম ঘোষণা করেও স্থগিত করা হয়। তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ,ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, ডেপুটি অ্যাটনি জেনারেল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবি মির্জা আল মাহমুদ ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান খান। এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হচ্ছেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুল, সিপিবির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আশিকিন আলম, এলডিপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ময়মনসিংহ মহানগরের সভাপতি এ টি এম জাহীদ হাসনাত বুলবুল, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন ও খেলাফত মজসিলের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল করিম, গণঅধিকারের সম্ভাব্য প্রার্থী ড. জাফর সিদ্দিকী ও সারোয়ার সরকার। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভা-সমাবেশ, উঠোন বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, ধর্মীয় ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) : আওয়ামীবিরোধী আসন হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসন। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মসলিস ও ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এমনটি হলে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান অনেকটাই মজবুত। তাদের সঙ্গেই হবে নির্বাচনি লড়াই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের সহোদর ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শিল্পপতি জাকির হোসেন বাবলু। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তি, খেলাফত মজলিস থেকে একক প্রার্থী হচ্ছেন আশরাফ সরকার ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সিরাজুল ইসলাম। তবে এনসিপি ও গণঅধিকার থেকে এখন পর্যন্ত কারো নাম শোনা যায়নি।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) : ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের নাতনি জামাই আকতারুল আলম ফারুক। মাঠে তৎপর রয়েছেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল করিম সরকার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্র নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমেদের পুত্র তানভীর আহমেদ রানা, উপজেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম। জামায়াত থেকে এ আসনে একক প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন। তবে এখন জামায়াতের সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা মিছিল-সমাবেশ ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। জাতীয় নাগরিক কমিটি—এনসিপির প্রার্থী জাভেদ রাসিন, গণঅধিকারের সম্ভাব্য প্রার্থী রবিউল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি নূরে আলম সিদ্দিকী। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দলের প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের অবস্থা ভিন্ন। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। বিএনপির প্রার্থী বদলের জন্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে সাবেক এমপি আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদত সামনের নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারে স্থানীয় জনসাধারণ জানান। জামায়াত থেকে এ আসনে একক প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল, গণঅধিকার প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, মুক্তিজোটের প্রার্থী বাদশাহ দেওয়ান, জমিয়তে উলামা ইসলাম থেকে হাফেজ মোজাম্মেল হক ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) : আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ব্যবসায়ী প্রকৌশলী লুত্ফুল্লাহ হেল মাজেদ বাবু। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবীর শাহীন মাঠে রয়েছেন। বিএনপির চাওয়া ঈশ্বরগঞ্জ আসন উদ্ধার। দখলে নিতে মরিয়া জামায়াত। জামায়াত থেকে একক প্রার্থী উপজেলা আমির অধ্যক্ষ মুঞ্জুরুল হক, এলডিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল, গণঅধিকার প্রার্থী জিয়াউর রহমান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী উপজেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ। এ আসনে এখন পর্যন্ত এনসিপিসহ অন্য কোনো দলের প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় দলের নেতা কর্মী ও সমর্থকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা সদর ও হাটবাজার এলাকার দর্শনীয় জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছবিসহ ব্যানার-পোস্টার ঝুলিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। নিয়মিত গণসংযোগ করছেন, যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশেও। বিএনপি চার ধারায় বিভক্ত থাকলেও মনোনয়ন পেয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার পক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির চায় এ আসন পুনরুদ্ধার। জামায়াত সমর্থিত আটদলীয় জোটের প্রার্থীও চায় আসনটিতে জয়ী হতে। বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ইয়াসের খান চৌধুরীর বাতিলের দাবিতে সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর পুত্র নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসের খান চৌধুরী, এ কে এম শামসুল ইসলাম সূর্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন, নান্দাইল বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন বিন আবদুল মান্নান সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করছেন। এ আসনে জামায়াতসহ আটদলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, এনসিপির প্রার্থী আশিকিন আলম রাজন, গণঅধিকার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাইদুর রহমান।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) : ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী এক দুর্গের নাম গফরগাঁও। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বিভিন্ন। বিএনপি থেকেও আগামী নির্বাচনে এই আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন। কোন্দল ও বিভক্তি জর্জরিত বিএনপি চাইছে আগামী নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে এবং এই আসন পুনরুদ্ধার করতে। জামায়াত এই আসনের দখল নিতে মরিয়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এ বি সিদ্দিকুর রহমান, প্রয়াত সাবেক এমপি ফজলুর রহমান সুলতানের পুত্র গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আল ফাত্তাহ খান ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম। জামায়াতের একক প্রার্থী এ আসনে ইসমাইল হোসেন, গণঅধিকার প্রার্থী আব্দুর রহিম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ক্কারী মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী। এ আসনে এনসিপি ও খেলাফত মজলিস থেকে কারও নাম শোনা যায়নি এখনো।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) : এক সময় অবহেলিত ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনটি বর্তমানে শিল্পাঞ্চল ও ব্যাপক জনগোষ্ঠী থাকায় ব্যাপক আলোচিত। শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠায় ভালুকা এখন সমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিএনপি থেকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, ভালুকা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ৩১ দফার প্রচারণা হিসেবে লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, গণসমাবেশ, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ বিতরণ, গাছের চারা বিতরণসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির চাওয়া এ আসন পুনরুদ্ধার। জামায়াত আসনটি দখলে নেওয়ার জন্য অনেক আগে থেকেই মাঠে কাজ করছে। বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ নিয়ে মাঠে কাজ করছেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম। তাদের পাশাপাশি মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আমির ছাইফ উল্ল্যাহ পাঠান ফজলু। এছাড়া, জাতীয় গণসংহতি আন্দোলনের অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন (কর্নেল) মো. খালেদ হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মুস্তফা কামাল কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মামুনুর রশিদ খান, গণঅধিকার পরিষদ থেকে আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এলডিপিসহ অন্য দল থেকে এখনো এ আসনে কারও নাম শোনা যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page