অনলাইন ডেস্ক:
ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বানরের উৎপাতে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দলে দলে বানর পাকা ধানে হানা দিয়ে মুহূর্তেই নষ্ট করে দিচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। ফলে দিনরাত কুকুর ও লাঠি নিয়ে ধানক্ষেতে পাহারা দিচ্ছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে শত শত বানর প্রতিদিন ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত দলে দলে নেমে আসছে ধানক্ষেতে। দেখা যায়, একেক দলে দেড় থেকে দুই হাজার বানর পাকা ধানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাদের আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেতের পাশে দাঁড়িয়ে থাকছেন, কখনও কুকুর দিয়ে তাড়া দিচ্ছেন, আবার কেউ ঢোল পিটিয়ে ও চিৎকার করে বানর তাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, জয়চাঁদপুর, বীরচন্দ্রনগর, মহেশপুষ্করনি ও রাঙ্গামাটি গ্রামের কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এই মৌসুমে আমি ৬০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই কাটা শুরুর আগেই বানরের পাল ২০ শতকের বেশি জমির ধান খেয়ে ফেলেছে। এতে আমার কয়েক হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন বাকি ফসল রক্ষায় কুকুর নিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে।’
কৃষকরা বলছেন, বন থেকে বানর তাড়ানোর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত এই ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বানর বিষয়টি বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতায় পড়লেও আমরা কৃষকদের সতর্ক থেকে ফসল রক্ষার পরামর্শ দিচ্ছি। যারা ধান কাটার উপযুক্ত অবস্থায় আছেন, তারা যেন দ্রুত ফসল ঘরে তুলেন।
অন্যদিকে, পরশুরাম উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমান জানান, ভারতের জঙ্গলে খাবারের সংকট তৈরি হওয়ায় বানরের দল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ধানক্ষেতে নেমে আসছে। আমরা বনবিভাগের টহল বাড়িয়েছি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ফেনীর সীমান্তে বানরের উৎপাতে ফসল রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।