আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার তার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়বেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে, বিশেষ করে আগামী বাজেট ঘোষণার পর সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে, দলীয় অভ্যন্তরে একটি নেপথ্য ষড়যন্ত্র চলছে তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ, এবং এনার্জি সেক্রেটারি এড মিলিব্যান্ড-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে স্টারমারের অনুগতরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সহজে পিছু হটবেন না। এক মন্ত্রী বলেন, “তিনি লড়বেন। তিনি জীবিত থাকা মাত্র কয়েকজনের একজন, যিনি লেবার পার্টিকে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী করেছেন। এখন তাকে সরানো অবিবেচক সিদ্ধান্ত হবে।”
লেবার পার্টির ভেতরে অনেকে মনে করছেন, আগামী স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনের পর সরকার আরও চাপে পড়তে পারে, আর সেখানেই নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, এতদিন অপেক্ষা না করে বাজেটের পরই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। স্টারমারের বিরোধীরা বলছেন, ডাউনিং স্ট্রিট এখন “বাঙ্কার মোডে” আছে- সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায়, যা সরকারের কার্যকারিতা নষ্ট করছে।
অন্যদিকে স্টারমারের মিত্ররা মনে করেন, এখন নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে তা শুধু দলকেই নয়, দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও অস্থিতিশীল করতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে কনজারভেটিভ পার্টির শাসনের শেষ বছরের বিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, স্টারমারের জনপ্রিয়তা এখন ঐতিহাসিকভাবে নিম্নমুখী। অনেকে মনে করছেন, লেবার সরকার এখন রিফর্ম ইউকে দলের উত্থানের মুখে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। তবুও প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, তিনি এখনও ফারাজ ও তার দলের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয়ী হতে পারবেন।