অনলাইন ডেস্ক:
কন্যা সন্তানের গায়ের রং ভিন্ন হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোর সদর উপজেলার মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে। যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সন্তানের গায়ের রঙ ও চুলের রঙ বিদেশিদের মতো হওয়ায় স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে তাকে তালাক দিয়েছেন যশোরের এক ব্যক্তি। যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়া গ্রামে এমন অমানবিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে মোজাফফর হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়ার মোজাফফর ও কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার মনিরা খাতুনের। ২০২২ সালের নভেম্বরে তাদের ঘরে জন্ম নেয় কন্যা আফিয়া। জন্মের পর থেকেই শিশুটির গায়ের রং সাদা ও চুল হালকা বাদামী হওয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করেন মোজাফফর। এ ঘটনার জেরে বিদেশে গিয়ে মিথ্যা অপবাদে তাকে তালাক দেন বলে অভিযোগ করেন মনিরা।
আফিয়ার ভিন্ন গায়ের রং নিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘দেশে এমন বর্ণের অনেক মানুষ রয়েছে। এটি সাধারণত বাবার জিনগত ত্রুটি। যার প্রভাব সন্তানের ওপর পরে।’
মনিরা বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর স্বামী মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে তালাক দেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে জন্মের পর থেকেই সে নানা অপবাদ দিতে শুরু করে। বলে, মেয়ে তার না। পরে বিদেশে চলে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, তারপর তালাক পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের মে মাসে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও সমাধান হয়নি। সালিশে মোজাফফরের ভাই আবু বক্কর প্রতি মাসে আফিয়ার জন্য ভরণপোষণ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু দু’বছর পার হলেও কোন টাকা না দেওয়ায় সন্তানকে নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
মনিরা বলেন, ‘কন্যার ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষা করে সন্দেহ দূর করতে চাইলে মোজাফফর তাতে রাজি হন না। এ সময় কাউকে না জানিয়ে বিদেশে চলে যান তিনি। পরে ৭-৮ মাস পর আমাকে তালাক দিয়ে দেয়।’
বিষয়টি নিয়ে রামনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল গফুর মোল্লা বলেন, ‘শুধুমাত্র সন্তানের গায়ের রং ভিন্ন থাকায় স্ত্রী এবং কন্যাকে ত্যাগ করেন মোজাফফর। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকদফা মীমাংসার চেষ্টা করেছি।’ মীমাংসায় সমঝোতা হলেও পরে মোজাফফরের পরিবার সেই কথা রাখেনি বলে জানান তিনি।
রামনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ রায় বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বর্তমান সময়ে এসে কোন মানুষ এমন অমানবিক কাজ করতে পারে না।
তিনি সাধ্যমত পরিবারটিকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে জানান, গ্রাম আদালতে অভিযোগ দিলে ভরণপোষণের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত মোজাফফরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তার বড় ভাই আবু বক্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মোজাফফর দেশে নেই।
এদিকে অভিযুক্ত মোজাফফরের বড় ভাই আবু বক্কর দাবি করেন, বিষয়টি অতীতে সালিশে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে সংবাদ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা ও ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।