জেডটিভি বাংলা প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৪৫
তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে বেজে উঠেছে মহাযুদ্ধের দামামা। দীর্ঘ জল্পনা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আকস্মিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো তেহরান শহর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার সকালে তেহরানের আকাশে একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার পর শহরের কৌশলগত এলাকাগুলো থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং দুইজন মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা এবং পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকাগুলো এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের ক্রমবর্ধমান পরমাণু সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব বিস্তার নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতেই এই ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার পরপরই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইরান যদি এই হামলার পাল্টা জবাব দেয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়বে। এরই মধ্যে তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইরানীয় রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC)।
তেহরানের আকাশে এখনো ধোঁয়া উড়ছে এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে আতঙ্কিত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার নিন্দা জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং বিশ্বনেতারা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
সর্বশেষ খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন জেডটিভি বাংলার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।