আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধের তালিকা সম্প্রসারণ করেছেন। নতুন তালিকায় সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং আরও কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তার হুমকি থেকে দেশকে রক্ষা করতে স্ক্রিনিং, ভেটিং এবং তথ্য ভাগাভাগিতে ঘাটতি থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।
নতুন তালিকাভুক্ত দেশসমূহ
সিরিয়া, ফিলিস্তিন, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, সিয়েরা লিওন, লাওস, দক্ষিণ সুদান, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে এখনও স্বীকৃতি না দেওয়ায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সরাসরি ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ বলা হয়নি।
আগে থেকে নিষিদ্ধ ১২ দেশ
এর আগে গত জুনে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সেগুলো হলো—
ইরান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হচ্ছে না। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এ অবস্থায় নাগরিক স্ক্রিনিং ও তথ্য যাচাই যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না।
এছাড়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিদেশি সন্ত্রাসী ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রযোজ্য হবে পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী—দুই প্রকার ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রেই।
প্রসঙ্গঃ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারার সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ক
নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা হয়েছিল। শারা সিরিয়ার দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর নিজেকে মধ্যপন্থি নেতা হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করার চেষ্টা করছেন। তবু নিরাপত্তার কারণে সিরিয়াকে নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।