মো. আবু সাঈদ :
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক তেওতা জমিদারবাড়ি আজ প্রায় ধ্বংসের মুখে। একসময় জেলার সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত এই প্রাসাদ, বর্তমানে অবহেলা ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে জরাজীর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।
জানা যায়, সতেরো শতকে পঞ্চানন সেন এই জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। প্রাসাদটি ৭.৩৮ একর জায়গায় বিস্তৃত, যার মধ্যে মূল প্রাসাদ, নবরত্ন মঠ, নটমন্দির ও ৫৫টি কক্ষ রয়েছে। মূল ভবনের পাশের কিছু ভবন সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংস্কারকর্ম শেষ করলেও প্রধান ভবনটি এখনও ভাঙাচোরা ও অবহেলিত অবস্থায়। দেয়ালে বড় বড় ফাটল, ভেঙে যাওয়া সিঁড়ি ও ছাদের ক্ষয় এখন চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা জানান, জমিদারবাড়িতে কাচারি ঘর ছিল যেখানে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ হতো, আর নবরত্ন মন্দির ছিল ৯টি রত্নসহ। যুদ্ধ ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এসব রত্ন বর্তমানে নেই।
স্থানীয়রা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন: “সরকার যদি দ্রুত সংস্কার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তেওতা জমিদারবাড়ি একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। নজরুল ইসলামের স্মৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণার কেন্দ্রও স্থাপন করা যেতে পারে।”
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, “গত অর্থবছরে কিছু কাজ করা হয়েছে। এবার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কয়েক বছরের মধ্যে প্রদর্শনী ও সংস্কারের কাজ সুন্দরভাবে করা সম্ভব।”
তেওতা জমিদারবাড়ি দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে পারে।