নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মোরশেদ আলমের বদলির খবর স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা সহ সারা দেশে পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যায়ে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন থানা ও প্রশাসনিক পর্যায়েও বদলির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সোনাইমুড়ীসহ নোয়াখালী জেলার ছয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি হচ্ছে।
গত ৫ আগস্টের আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন থানার ওসিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমন অস্থির সময়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সোনাইমুড়ী থানায় যোগদান করেন ওসি মোরশেদ আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর আন্তরিকতা, মানবিক আচরণ এবং সর্বসাধারণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এলাকার মানুষের মন জয় করে নেয়।
দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যা মামলার আসামিসহ বেশ কয়েকজন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন। তাঁর অভিযানে অপকর্মে জড়িত অনেকেই এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়, ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এলাকার কেউ অহেতুক হয়রানির শিকার হয়নি বলেও জানান স্থানীয়রা। বরং যেকোনো প্রয়োজনেই তাঁকে সরাসরি ফোনে বা থানায় এসে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ ছিল সকলের জন্য উন্মুক্ত।
স্থানীয় পর্যায়ে ইভটিজিং প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে ওসি মোরশেদ ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়।
ওসি মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জেডটিভি বাংলাকে বলেন, আমরা সরকারি চাকরি করি। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। প্রশাসনিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সব অনুরোধ পূরণ করা সম্ভব হয় না। তবে দায়িত্বকালীন সময়ে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় জনসাধারণও আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। যতদিন পুলিশ বাহিনীতে আছি, জনগণের সেবক হিসেবেই কাজ করে যাবো।
বদলির বিষয়ে তিনি আরও জানান, আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশ এখনো হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেলেই নতুন কর্মস্থলের ঠিকানা জানা যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁর নিজ জেলা নরসিংদীতেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিয়মিত সহযোগিতা করে থাকেন।