January 11, 2026, 3:31 pm
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: কুষ্টিয়ার চার আসনের চিত্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: কুষ্টিয়ার চার আসনের চিত্র

অনলাইন ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা তুঙ্গে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত উঠান বৈঠক, শোভাযাত্রা ও মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও প্রতিটি আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে দলীয় বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী মাঠে থাকায় তাদের প্রচারণা অনায়াসে চলছে।

অন্যদিকে, প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতের কোনো কোন্দল নেই, সব আসনেই একক প্রার্থী নেমেছে প্রচারণায়। জামায়াত নেতাকর্মীরাও মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন আদাজল খেয়ে। বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হলেও চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিএনপির মনোনয়নপ্রাত্যাশী একাধিক প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এতে প্রতিটি আসনেই বিএনপির বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): জেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ সংসদীয় আসন। ১৪টি ইউনিয়নের এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৬ জন। স্বাধীনতার পর এই আসনে পালাক্রমে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একচ্ছত্র আধিপত্য ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল।

পরবর্তী সময় ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আহসানুল হক মোল্লা পর পর তিন বার এই আসনে এমপি নির্বাচিত ও সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে এমপি হন তার ছেলে রেজা আহমেদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা। ২০০৮ সালে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে যায়। আগামী নির্বাচনে এই আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

তবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা দলীয় মনোনয়ন পেতে রয়েছেন প্রচারণায়। তবে দলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কান্ডারি হিসেবে বাচ্চু মোল্লাই জনসমর্থনে এগিয়ে আছেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান।

এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী দৌলতপুর শাখার আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন। এছাড়া অন্যান্য দলের প্রার্থী হিসেবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মুফতি আমিনুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মওলানা শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ

খেলাফত মজলিসের মওলানা আসাদুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের শাহাবুল মাহমুদ ইসলাম ও এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের নাম শোনা যাচ্ছে।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা): জেলার মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা মিলে কুষ্টিয়া-২ সংসদীয় আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭২ হাজার ৮৮ জন। এই আসনে বিএনপির প্রাথমিক ঘোষিত তালিকায় ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তিন বার নির্বাচিত সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহীদুল ইসলামকে বাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী শরিক জোট নেতা জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সাবেক এমপি আহসান হাবীব লিংকনও বাদ পড়েন।

এদিকে, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করে দলের বর্ষীয়ান ও ত্যাগী নেতা অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার একাংশের নেতাকর্মীসহ শহিদুলের সমর্থকরা। দলীয় বিভেদ নিরসন করা না হলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কপাল পুড়তে পারে বলে তৃণমূল নেতাদের শঙ্কা।

অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর একক কুষ্টিয়া জেলা শাখার নায়েবে আমির আলহাজ মো. আব্দুল গফুর। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া, অন্যান্য প্রার্থী হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আলী, খেলাফত মজলিসের মওলানা মুফতি মো. আব্দুল হামিদ ও এনসিপির নয়ন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর): কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন ১৫টি ইউনিয়ন মিলে গঠিত। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৬ জন। এক সময় এই আসন ছিল বিএনপির দুর্গ। স্বাধীনতার পর পর্যায়ক্রমে এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ন্যাপ ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফের সরব হয়ে উঠেছে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সব দলের নেতাকর্মীর মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

এ আসনে বিএনপির প্রাথমিক তালিকায় দলীয় ঘোষণা করা হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে। এতে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের কর্মী ও সমর্থকরা বেঁকে বসেছেন।

জাকির সরকারের মনোনয়ন বাতিল করে সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাবকে দলীয় মনোনয়ন দিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ লাগাতার নানা কর্মসূচি পালন করছেন তার কর্মী ও সমর্থকরা। এছাড়া জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে ত্যাগী নেতারা স্থান না পাওয়ায় সৃষ্টি হয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল-অসন্তোষ।

বিরাজমান সংকট নিরসন না হলে বিএনপির হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে ফের বিপর্যয় হতে পারে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের শঙ্কা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত একক প্রার্থী হিসেবে শক্তভাবে মাঠে নেমেছেন ইসলামী বক্তা মুফতি মাওলানা আমির হামজা।

এছাড়া খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আবদুল লতিফ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী ও গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তবে এই আসনে এনসিপি প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা): কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা মিলে কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭০৪ জন। এককালে এই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। এই আসনে তিন বারের নির্বাচিত এমপি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে তিনিই পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। কিন্তু বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যরাও চান দলীয় টিকিট।

বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আনসার প্রামানিক ও তার সমর্থক এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ সাদীসহ সমর্থকরা সৈয়দ মেহেদী রুমীর মনোনয়ন বাতিল দাবি করে আসছেন। এই আসনের নতুন মুখ কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাফেজ মো. মঈনউদ্দিনও মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এই আসনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী হচ্ছেন নায়েবে আমির মো. আফজাল হোসাইন। নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে তিনিও বেশ আশাবাদী। অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আলী আশরাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ আনোয়ার হোসেন খান নেমেছেন প্রচারণায়।

সূত্রঃ ইত্তেফাক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *