কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী) আসনে প্রাথমিক দলীয় মনোনীত প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা একছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচন্ডভাবে বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ ও পৌর নির্বাচনে দলের নীতি আদর্শ বহিরভূত ভাবে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি পার্থীর নিকট থেকে অনৈতিক লেনদেন করে দলের ভাবমূর্তি চরম ভাবে নষ্ট করেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে সে তার বাহিনী দিয়ে ভুরুঙ্গামারী স্থলবন্দর দখল করতে গেলে সংঘর্ষ হয় এবং প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করতে বাধ্য হন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জনকে টিসিবি ও খাদ্যবান্ধবের ডিলারশীপ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদ পেয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে অনৈতিক লেনদেন করে চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছেন। এই আসনে দাপট ক্ষমতা নয় মানবিক মানুষ চায় এলাকাবাসী।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, জেলা বিএনপি ও নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরোধিতা করে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি ধামকি প্রদান করেন। সে নির্বাচিত হইলে দলীয় নেতাকর্মীদের দেখে নেবে, দল থেকে বহিষ্কার করবে মর্মে হুমকি প্রদান করা সহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে ভদ্র মার্জিত জনপ্রিয় ত্যাগী ও জনকর্ল্যাণে দীর্ঘদিন নিবেদিত ডা. ইউনুছ আলী, কেন্দ্রীয় ড্যাবের যুগ্ন মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় তাকে মনোনয়ন প্রদান করার জন্য দাবি জানানো হয়। সাইফুর রহমান রানার বিরুদ্ধে নাগেশ্বরী উপজেলা, নাগেশ্বরী পৌরসভা এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ২৩০জন নেতাকর্মীর আনিত অনাস্থা জ্ঞাপন সম্বলিত ১৭ পাতার নাম পদবী ও মোবাইল নম্বর সহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী বরাবর প্রেরণ করা হইয়াছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আলহাজ মোখলেছুর রহমান বলেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা নাগেশ্বরী উপজেলার বিএনপির সর্বস্থরের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ রানার কাছে চরমভাবে লাঞ্চিত ও অপমানিত। ৩রা নভেম্বর মনোনয়ন পেলেও আজ পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি। তার কাছে দল নয় তিনি বড়।”
নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ শফিউল আলম শফি বলেন যে, “মনোনয়ন পাওয়ার পরে রানা ভাইয়ের আচরণ সম্পুর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। সে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অন্যান্য দলের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। যা অত্যান্ত নিন্দনীয় এবং দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে দুই উপজেলার দলীয় নেতৃবৃন্দ তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করতে বাধ্য হয়েছে।” নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক উমর ফারুক জানান, “সাইফুর রহমান রানা ১৬বছর ধরে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে নির্যাতিত নিপিড়িত হয়েছে তাদের কে বাদ দিয়ে কিছু জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগ ঘড়ানার নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছে। যে বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সর্বস্থরের নেতাকর্মী ধীক্কার জানিয়ে অনাস্থা জ্ঞাপন করতে বাধ্য হয়েছে।
” ভুরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সহিদুল ইসলাম আকন্দ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন যে, “১৬ বছর আমরা যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করলাম, নির্যাতিত নিপিড়িত হলাম, সেই আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির লোকজন নিয়ে সাইফুর রহমান রানা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। যা ভুরুঙ্গামারীর নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছে না।” একই উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সাখওয়াত হোসেন তৌহিদ বলেন যে, “১৬ বছর সংগ্রাম করেছি হাসিনা ফ্যাসিস্ট বিরুদ্ধে এখন সংগ্রাম করছি নিজ দলের একনায়কতন্ত্র চাদাবাজ ও অহংকারীর বিরুদ্ধে।”
নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুরুন্নবী মিয়া বলেন যে, “মনোনয়ন পরিবর্তন না করলে এ আসন আমরা হারাবো।” উপজেলা যুব দলের সিনিয়র আহ্বায়ক প্রভাষক ফরহাদ হোসেন বলেন যে, “রানা মিয়ার যে অহংকার, দলের নেতাকর্মীদের উপর তার যে হুমকি ধামকি ফলে তার পক্ষে যুবদলের নেতাকর্মীরা কাজ করবে না মর্মে আমরা অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষর করেছি। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত জানতে সাইফুর রহমান রানাকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে, “গত ৩রা নভেম্বর দল থেকে কুড়িগ্রাম-১ আসনে সাইফুর রহমান রানাকে প্রাথমিক প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়। পুরো ১মাস অতিবাহিত হলেও প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপি ও নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ভাবেও দলীয় কার্যালয়ে আসেননি ও যোগাযোগ করেননি। ফলে দুই উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন।