ইসলমিক ডেস্ক :
ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন বিনয় ও সরলতার প্রতীক। নিজেকে কখনো অন্যের চেয়ে উঁচু বা বিশেষ স্থানে দেখাতে চাননি। আচার-আচরণ, কথাবার্তা এবং জীবনধারায় তিনি সবসময় নম্র ও সাধারণ জীবন যাপন করতেন।
নবী (সা.) রাজা বা ধনীদের মতো বিশেষ সম্মান পেতে কখনো আগ্রহ দেখাতেন না। কেউ তাকে দাঁড়িয়ে বা হাঁটু গেড়ে সম্মান জানালে তা তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন। তার ঘরবাড়ি, পানাহার ও পোশাক ছিল সাদামাটা এবং বিলাসিতার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।
সাহাবিদের সঙ্গে সহযোগিতা
একবার যাত্রাপথে সাহাবিদের সঙ্গে খাবার প্রস্তুত করার সময় নবী (সা.) নিজেই কাঠ সংগ্রহ করতে এগিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “আমি জানি তোমরা আমার জন্য সব কাজ করতে পারবে; কিন্তু আমি আলাদা সুবিধা ভোগ করতে চাই না।” এই উদাহরণ তার বিনয়ী চরিত্রের প্রকাশ।
গৃহস্থালি ও পরিবারের কাজ
নবী (সা.) ছিলেন আদর্শ স্বামী ও পিতা। একাধিক স্ত্রী থাকলেও সকলের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতেন। তিনি নিজের জুতা মেরামত, কাপড় সেলাইসহ ঘরের কাজেও সাহায্য করতেন।
নারীদের প্রতি আচরণ
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল এবং নারীদের সঙ্গে সর্বদা ভদ্র ও সম্মানজনক আচরণ করতেন।
দরিদ্র ও দাসদের প্রতি সহানুভূতি
নবী (সা.) দরিদ্র, নিপীড়িত ও দাসদের সর্বদা সমান মর্যাদায় দেখতেন। খাদিজা (রা.) থেকে প্রাপ্ত জায়েদ ইবনে হারিসাকে তিনি মুক্ত করে ঘনিষ্ঠ সাহাবি হিসেবে গ্রহণ করেন। নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দরিদ্র ও বিধবাদের যত্ন নেয়, সে আল্লাহর পথে যোদ্ধার সমতুল্য।
উপসংহার
নবী (সা.)-এর চরিত্র ছিল মানুষকে আকৃষ্ট করার মতো। তার অনুসরণে মুসলিমদের উচিত সৎ জীবনযাপন, বিনয়ী হওয়া এবং অন্যদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করা।