আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বড় ধরনের সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে। আলোচনার পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ২৮ দফার খসড়া কমিয়ে আনা হয়েছে ১৯ দফায়। সোমবার এ বিষয়ে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। খসড়ার বেশ কিছু সংবেদনশীল প্রস্তাব নিয়ে কিয়েভ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আগে থেকেই আপত্তি ছিল। মার্কিন গণমাধ্যম ও টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে “খুব ফলপ্রসূ ও অগ্রসরমান” আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের যৌথ বিবৃতিতেও বৈঠকে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির” কথা তুলে ধরা হয়েছে। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে আলোচনায় উপস্থিত কয়েকজন জানান, খসড়া থেকে ৯টি প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও কোন ধারাগুলো বাদ গেছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বিশেষভাবে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত রুশ সম্পদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। তাদের বক্তব্য—এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইইউয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এগোতে পারে না। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব দফা কমানোকে “অগ্রগতির ধাপ” হিসেবে দেখলেও সতর্ক করে বলেন, সামনে আরও বহু জটিলতা রয়েছে।
জেনেভায় পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপিত ২৮ দফার খসড়ায় এমন কিছু প্রস্তাব ছিল যা কিয়েভকে চরম বিব্রত অবস্থায় ফেলেছে। প্রস্তাবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে অতিরিক্ত কিছু এলাকা ছাড়ার সম্ভাবনা, সামরিক বাহিনীর আকার কমানো এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার বিষয়গুলো স্থান পেয়েছিল। শনিবার এক বক্তব্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটি তার “চূড়ান্ত প্রস্তাব নয়”। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া চেয়েছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এখন কঠিন এক সঙ্কটে—“আমরা কি মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি নেব, নাকি একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারানোর ঝুঁকি নেব—এই সিদ্ধান্তই এখন সামনে।”
গত শনিবার ৯টি ইউরোপীয় দেশ, জাপান, কানাডা ও ইইউয়ের শীর্ষ প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেন যে, ইউক্রেনের সামরিক শক্তি সীমিত করার প্রস্তাব দেশটিকে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সাড়ে তিন বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে শান্তি ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা এখনও বহুপাক্ষিক আলোচনার মধ্যেই রয়েছে। চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।