আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের ওই হামলায় অন্তত সাত জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলার ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি নতুন আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি লিখেছেন- “ইউক্রেনের এখন এমন সহায়তা প্রয়োজন, যা মানুষের জীবন রক্ষা করবে। আর সেটি হলো- আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা, আরও নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং আমাদের অংশীদারদের আরও দৃঢ় ভূমিকা।”
কিয়েভে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নাতালিয়া খোদেম্নচুক, যিনি ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল বিপর্যয়ে নিহত হওয়া এক অপারেটরের স্ত্রী। জেলেনস্কি বলেন, “প্রায় চার দশক পর নাতালিয়া আবারও ক্রেমলিনের কারণে নতুন এক ট্র্যাজেডির শিকার হলেন।” ইউক্রেনীয় বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি-রুশ সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলার সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশলের অংশ হিসেবে এই আঘাত হানা হয়েছে। রিয়াজানের গভর্নর পাভেল মালকভ জানান, রাতের আকাশে ইউক্রেনের ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পতিত ধ্বংসাবশেষে একটি কারখানায় আগুন লাগলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে ইউক্রেন নিয়মিতই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের ওপর ধারাবাহিক আকাশ হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার তীব্রতা সম্প্রতি আরও বেড়েছে।