জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ২৮৬ জন নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন মামলাটি বিচারের উপযোগী ঘোষণা করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন।
জয় বাংলা ব্রিগেডের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক, যিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে “জয় বাংলা ব্রিগেড” নামের একটি গোষ্ঠী মিটিং করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫৭৭ জন অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশ থেকে যুক্ত হন।
মিটিংয়ে গৃহযুদ্ধের আহ্বান ও শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। পর্যালোচনায় কথোপকথনে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক উপাদান পাওয়া যায় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ১৪ আগস্ট সিআইডি শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পলাতক ও গ্রেফতার আসামি
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৫৮ জন আসামি পলাতক। ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে সাবিনা আক্তার তুহিন, সাবেক এমপি ও যুব মহিলা লীগের নেত্রীসহ ২৮ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—ড. রাব্বি আলম, এডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা।
আদালতের নির্দেশ
বিচারক ইশরাত জেনিফার জেরিন বলেন, মামলাটি প্রাথমিকভাবে বিচার উপযোগী। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানেই এর পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য: সংবিধানের ১৯৬ ধারার অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের ও তদন্তের অনুমতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তদন্তে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সিআইডি চার্জশিট দেয় বলে জানায় তদন্ত কর্মকর্তা।