সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা :
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসা নিতে গেলে ফার্মাসিস্টের কাছে টাকা দিতে হয়, ওষুধ চাইলে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়।
রোববার (২ নভেম্বর) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন মিয়া জানান, ‘গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ নিতে এসে দেখি, ট্যাবলেটের মেয়াদ গত সেপ্টেম্বরেই শেষ। কিছু ওষুধের মেয়াদ কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে বোঝা না যায়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাইরে বিক্রি বা আত্মীয়দের মধ্যে বিতরণ করা হতে পারে।
রোগী বিভা দত্ত (৯০), রাজিয়া খাতুন (৬৫), হানিফ আলী (৫৫) ও সুমনের স্ত্রীও জানান, তারাও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পেয়েছেন।
এদিকে কেয়া আক্তার নামের এক নারী বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ নিয়েছিলাম। আজ খবর পেয়ে দেখি, ওষুধের মেয়াদ দুই মাস আগেই শেষ।’
বিউটি আক্তার নামের অপর এক নারী জানান, ‘আমার নাতির চিকিৎসার সময় ফার্মাসিস্ট ৫০ টাকা নিয়েছেন, অথচ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা তো ফ্রি থাকার কথা।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে একই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত। নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও তাকে বদলি করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কার্টুনসহ ওষুধ নিয়ে আসি। হয়তো ভুলবশত মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ এসেছে। এখানে পিয়ন নেই, মেডিক্যাল অফিসারও নেই — আমি আর সেকমো মিলে সব সামলাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আফসান রেজা বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অল্প সময়ের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ক্ষতিকর না হলেও কার্যকারিতা হারায়, তবে দীর্ঘ সময়ের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবনে বমি, ডায়রিয়া বা অন্যান্য জটিলতা হতে পারে।’