April 8, 2026, 12:25 am
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

জলাভূমি ও দেশীয় মাছ বাঁচাতে রাজশাহীতে জেলেদের মানববন্ধন

জলাভূমি ও দেশীয় মাছ বাঁচাতে রাজশাহীতে জেলেদের মানববন্ধন

রাজশাহী প্রতিনিধি

জলাভূমি, দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারি জালসহ সব ধরনের বিদেশি ক্ষতিকর মাছ ধরার সরঞ্জাম নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়। একই সঙ্গে এসব জাল আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে তারা।

রোববার (২৬ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১১টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলেরা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উপকরণ—খোঁরা জাল, পলো, চাঁই, বৃত্তি, বিনকি, খলই ও কাঁটা ফাঁদ হাতে নিয়ে চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে মাঠ পর্যায়ের গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে এখন চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার হচ্ছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জালে মাছের ডিম, পোনা, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ সব জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। এতে জলজ বাস্তুসংস্থান ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ৪.৫ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর তদারকি প্রায় অনুপস্থিত।

গোকুল-মথুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আগে বিলকুমারিতে নানা জাতের দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন মৌসুমেও মাছ নেই। আমরা কীভাবে টিকব?”

স্থানীয় জেলে আফাজ উদ্দিন কবিরাজ বিলুপ্ত মাছের নাম ছন্দে ছন্দে উচ্চারণ করে বিল রক্ষার আহ্বান জানান, যা উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগ ছড়িয়ে দেয়।

গ্রীন কোয়ালিশনের আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, “আইনে নিষেধ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রয়োগ নেই। চায়না দুয়ারি জাল আমদানি, বিক্রি ও উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।”

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

দাবিগুলো হলো:
১. বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারাদেশে চায়না দুয়ারি জাল ও অন্যান্য ক্ষতিকর বিদেশি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
২. অবৈধ জাল, রাসায়নিক হানিটোপ বিক্রি, উৎপাদন, আমদানি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. জেলে সম্প্রদায়ের বিকল্প জীবিকা, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও মৌসুমি ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দেশীয় মাছ রক্ষায় নদী, খাল-বিলের লিজ প্রথা বাতিল করে প্রকৃত জেলেদের মাছ আহরণের অধিকার দিতে হবে।
৫. জেলে সম্প্রদায়ের সামাজিক নিরাপত্তা, রেশন ও মৌসুমি ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা ঐতিহ্য অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণ করতে হবে।

জেলেরা বলেন, “আমরা শুধু মাছ নয়, জলাভূমির প্রাণও রক্ষা করতে চাই। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ না এলে একদিন দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *