নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) ২০১১ সালে পুঁজিবাজার থেকে রিপিট পাবলিক অফার (আরপিও) মাধ্যমে প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করেছিল। প্রায় ১৪ বছর পর, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সংস্থাটি এই আরপিও তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় সম্পন্ন করেছে।
সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরপিও তহবিলের অর্থ ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখা অবস্থায় ২৩৪ কোটি টাকারও বেশি সুদ আয় করেছে বিএসসি। সুদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ জাহাজ পরিচালন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
আরপিও ব্যয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার তহবিলের মধ্যে ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার ৭০ টাকা অব্যবহৃত ছিল। অক্টোবরেই সংস্থাটি পুরো অর্থ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে:
ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পে ২৩৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ভবন নির্মাণে ৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, আরপিও খরচ বাবদ ১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সুদ আয়ের ক্ষেত্রে সুদহার ছিল ৬ থেকে ১০ শতাংশ। কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী মূলধন খাতে আরপিওর অর্থ ব্যয় বাধ্যতামূলক, কিন্তু সুদ আয়ের অর্থ কোথায় ব্যবহার হবে সে বিষয়ে কোনো বিধি নেই। বিএসসি এই সুদ অর্থ জাহাজ পরিচালনার ব্যয়ে ব্যবহার করেছে। সংস্থাটি আগামী বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-এ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অনুমোদন নেবে।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে বিএসসির পর্ষদ। এই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ২০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরের ১৬ টাকা ৩৭ পয়সা ছিল। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAVPS) দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ৮৪ পয়সা। এজিএম ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, রেকর্ড ডেট ছিল ৭ ডিসেম্বর।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ বিএসসির শেয়ার ১০৭ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮২.৬০ থেকে ১২৭ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।