April 7, 2026, 1:35 pm
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে মাহমুদুর রহমান: সবকিছুর বিনিময়েও আল্লাহর কাছে হাদিকে ফেরত চেয়েছি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, “ফজরের নামাজে আল্লাহর কাছে মিনতি করেছি—আমার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও যেন হাদিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের আর দেশকে দেওয়ার কিছু নেই, কিন্তু হাদির দেওয়ার এখনও অনেক কিছু বাকি।”

শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজিত সমাবেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখান থেকে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, “হাদি কেবল একজন মানুষ নন, তিনি জুলাই বিপ্লবের প্রতীক। তার ওপর হামলা চালিয়ে সেই বিপ্লবের চেতনাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”

সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জানান, হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। হাদির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে হাদিই উপস্থিত ছিলেন। মাত্র পাঁচ মাস আগে তারা একসঙ্গে তার মায়ের দাফন সম্পন্ন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আজ সেই হাদি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে—এই বাস্তবতা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।”

ড. মাহমুদুর রহমানের ভাষ্য, বহু ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জুলাই বিপ্লব পরাজিত হয়নি, আর হাদিই তার জীবন্ত প্রমাণ। যারা জুলাইকে ‘বিপ্লব’ হিসেবে স্বীকার করতে চায় না, তারা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি তথাকথিত সুশীল সমাজের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারা কখনোই ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। নতুন প্রজন্মকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংগ্রামের নেতৃত্ব তরুণদেরই নিতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে হাদির সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন তরুণ সমাজ বই পড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন হাদি মানুষের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে একটি কালচারাল সেন্টার গড়ে তুলেছে—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।”

তিনি ঘোষণা দেন, “আজ থেকেই আমি হাদির সেই কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। হাদি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার অসমাপ্ত কাজ আমি এগিয়ে নিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।”

ড. মাহমুদুর রহমান আরও জানান, ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকেই আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের আগের দিন আমরা স্পষ্ট করে জানাবো—এই বিজয় দিল্লির কাছ থেকে পাওয়া নয়, এবং এই বিজয় দিল্লির কাছেও সমর্পণ করা হবে না।”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা মোকাবিলায় সর্বদলীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

হাদির ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার আগেই একাধিকবার হুমকির তথ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হামলার পরও জড়িত অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সমাবেশে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, এই সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনার থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একজন হাদিকে গুলি করে আমাদের সংগ্রাম থামানো যাবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার রুখে দাঁড়াতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবকে পূর্ণতা দিতে হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *