January 12, 2026, 12:25 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

সিআইডির হাতে মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার :

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রিসে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে লিবিয়ায় মানবপাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল। সেই চক্রের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নজির হোসেন (৫৫)–কে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মানবপাচার আইনে সিআইডির তদন্তাধীন দুটি মামলায় নজিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কীভাবে প্রতারণা করত চক্রটি

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, চক্রের সদস্যরা ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিত। প্রথমে পাসপোর্ট ও অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের দুবাই–মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হতো। সেখানে পৌঁছেই স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়—যারা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালাত। দুই যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং আরেকজনের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে নজিরের চক্র। টাকা নেওয়ার পরও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি; বরং লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় তারা ৪৫ দিন কারাবাস শেষে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

আরেক মামলায় একই কৌশল

ডেমরা থানায় দায়ের হওয়া আরেক মামলায় অভিযোগ রয়েছে—চক্রের সদস্য মো. বাহাদুর ফারাজীর মাধ্যমে এক যুবকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। নজির তাকে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট সরবরাহ করলেও শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর মরুভূমিতে ফেলে রাখা হয়। তিনিও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় দেশে ফেরেন।

দীর্ঘদিনের মানবপাচারকারী তিনি

সিআইডি জানিয়েছে, নজির এর আগেও বিমানবন্দর থানার প্রতারণা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে পাঠানোর নামে মানুষকে লিবিয়ায় পাচার করে আসছেন।
চক্রটি ১৯ জনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন দেশে ফিরলেও বাকি ভুক্তভোগীরা এখনও লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়া গোষ্ঠীর কাছে আটক।

তদন্ত চলছে

মানবপাচার ইউনিট (THB) জানিয়েছে, নজির দুই মামলার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ ও রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে সিআইডির অভিযান চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *