January 11, 2026, 8:44 pm
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

সচিবালয়ে ‘নজিরবিহীন’ অবরুদ্ধ অবস্থায় অর্থ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক:

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে সচিবালয়ে টানা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ রাখার ঘটনাকে দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে “নজিরবিহীন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাবেক শীর্ষ আমলারা। তাদের মতে, কেপিআইভুক্ত (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) সচিবালয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও নিরাপত্তা দুর্বলতার বড় উদাহরণ।

কীভাবে ঘটলো অবরুদ্ধের ঘটনা

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।
স্লোগান দিতে দিতে তারা দরজার সামনে অবস্থান করে উপদেষ্টাকে বের হতে বাধা দেন।
রাত ৮টা ১২ মিনিটে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হস্তক্ষেপ করলে উপদেষ্টা পুলিশি নিরাপত্তায় সচিবালয় ত্যাগ করতে সক্ষম হন। এই সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ

সন্ধ্যায় অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থসচিব আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বার্তা দেওয়া হয়—আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানেননি; সেদিনই প্রজ্ঞাপন জারি না হলে তারা অবস্থান ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন।

সাবেক সচিবদের প্রতিক্রিয়া: “১৯৮০ সালের পর এমন ঘটনা দেখিনি”

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন— “এতো দীর্ঘ সময় কাউকে অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা ১৯৮০ সালের পর দেখিনি। সচিবালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে এটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত।” তিনি আরও বলেন, পে–কমিশন ও দাবি-দাওয়ার অস্থিরতা প্রশাসনকে জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন— “এটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ঘটেছে। সচিবালয় কেপিআই এলাকা। একজন উপদেষ্টাকে পুলিশি প্রহরায় বের হতে হওয়া সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।”

নির্বাচনের প্রাক্কালে অস্থিরতা

ফিরোজ মিয়া আরও বলেন— “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ঘিরে এমন ঘটনা প্রশাসনসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।” তিনি সতর্ক করেন যে আর্থিক সুবিধা দিলে তা ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করে অন্যদের মধ্যেও একই দাবি উঠতে পারে।

আন্দোলনকারীদের যুক্তি

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ সচিবালয় ভাতার পক্ষে দুটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরেছে—

ঝুঁকি ও চাপ: জাতীয় প্রেসক্লাব–সচিবালয় এলাকা দেশব্যাপী আন্দোলন ও সমাবেশের কেন্দ্র। এজন্য কর্মীদের বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে কাজ করতে হয়।

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা: বিকেল ৫টার পর রাত ৮–৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়, কিন্তু কোনো ওভারটাইম সুবিধা নেই। তারা দাবি করেন—রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ সচিবালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বিশেষ ভাতা রয়েছে; তাই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতাও যৌক্তিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *