নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার তখনই সম্ভব হবে, যখন আমলাতন্ত্র তা মেনে নেবে—এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত “কর্তৃত্ববাদ পতন–পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান জানান, জনপ্রশাসন সংস্কারে শতাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও গুরুত্ব পেয়েছে মাত্র ১৮টি। এর প্রথমেই স্থান পেয়েছে—টয়লেট পরিষ্কার। তিনি বলেন, “দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আইন প্রণয়নে গোপনীয়তার আশ্রয় নিচ্ছে। রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়।”
গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, “সরকার যতদিন গণমাধ্যমকে পাবলিক গুড হিসেবে সুরক্ষা দিতে পারবে না, ততদিন গণমাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না। গণমাধ্যম কমিশনের প্রতিবেদন ইতিমধ্যে ধুলায় ঢাকা পড়তে শুরু করেছে; বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশ সুপারিশ।” তার দাবি, গণমাধ্যমের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ায় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের বিকাল থেকে দেশে দখল, চাঁদাবাজি আর মামলা বাণিজ্য হয়েছে—যেখানে গণমাধ্যমও সম্পৃক্ত ছিল। গত ১৫ বছরে কর্তৃত্ববাদ কাঠামো চরমে পৌঁছেছে। অনেক সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও আশু করণীয়গুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি।”