January 12, 2026, 4:28 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

‘মিনেসোটা প্রোটোকল’ মেনে জুলাই শহীদদের শনাক্তকরণ: সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তের কাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘মিনেসোটা প্রোটোকল’ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ। রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধের পাশের কবরস্থানে দাফন হওয়া প্রায় ১১৪ জন শহীদের মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। রোববার সকালে কবরস্থানেই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মরদেহ উত্তোলন, পোস্টমর্টেম, টিস্যু ও হাড় সংগ্রহ, ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি- সবই আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করেই করা হবে। পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনরা চাইলে মরদেহ গ্রহণ করতে পারবেন; অন্যথায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রেখে পুনঃদাফন করা হবে।

সিআইডি প্রধান বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে বেআইনি মৃত্যুর তদন্তে জাতিসংঘের স্বীকৃত ‘মিনেসোটা প্রোটোকল’ ব্যবহৃত হয় এবং জুলাইয়ের গণহত্যার তদন্তেও সেই প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে কোন কবরে কার দেহাবশেষ রয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো শনাক্তকরণে কত সময় লাগবে—এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। শনাক্তকরণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজিস্ট লুইস ফনডিব্রাইডার। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ওএইচসিএইচআরের মাধ্যমে তিনি ঢাকায় এসেছেন। গত ৪০ বছরে বিশ্বের ৬৫টি দেশে এ ধরনের ফরেনসিক অপারেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

সিআইডি জানায়, দেহাবশেষ উত্তোলন থেকে পরীক্ষা–নিরীক্ষার প্রতিটি ধাপে সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডিএমপি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সরাসরি কাজে যুক্ত আছেন। কবরস্থানেই অস্থায়ী ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ১০ জন স্বজন ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের আবেদন করেছেন। আরও কেউ চাইলে সিআইডিতে বা নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করে নমুনা জমা দিতে পারবেন। ছিবগাত উল্লাহ সাংবাদিকদের দেহাবশেষের ছবি না তোলার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি—এই প্রটোকল অনুসরণ করলে সব শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত শতাধিক মানুষকে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে সিটি করপোরেশন কবরগুলোর অবস্থান টাইলস ও মার্বেল বসিয়ে চিহ্নিত করে। গত ২ আগস্ট কবরস্থান পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শনাক্তহীন মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও বলেন, শনাক্ত হলে স্বজনরা চাইলে মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *