নিজস্ব প্রতিবেদক :
আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করেছে পুলিশ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে তাদের আদালতে আনা হয়।
হাজির হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—
ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের বহনকারী সবুজ রঙের প্রিজন ভ্যানটি আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় ছাদ ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে আসার পথে একটি ফ্লাইওভারে ওঠার সময় ভ্যানের ছাদে থাকা এসি ইউনিট পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়।
১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আজ শেখ হাসিনাসহ মোট ১৩ সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন—
মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
আইনজীবী পরিবর্তন
স্বেচ্ছায় আত্মপক্ষ সমর্থনে লড়তে চাইলে শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে জেডআই খান পান্নাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে সরে দাঁড়ালে তার স্থলাভিষিক্ত হন আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
আগের কার্যক্রম
গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা তিন কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় এবং পলাতকদের হাজিরে সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। এর আগে, ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন ১৩ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে আদালত তা আমলে নিয়ে সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।