নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সেবা ও জীবনমান উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে এলো। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-কে দেশটি প্রদান করেছে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এই সহায়তা গত আট বছরে গড়ে ওঠা চার লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে—এমন তথ্য জানানো হয়েছে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। আইওএম জানিয়েছে, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে সাতটি অতিঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি ১৭টি ক্যাম্পের ৪১ হাজার ৫০০ পরিবারের জন্য নিয়মিত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যা নিরাপদ রান্নার জ্বালানি ব্যবহারে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তায় কোরিয়া এ বছরও তাদের অবিচল অবস্থান বজায় রেখেছে। এই সহায়তার অংশ হিসেবে রয়েছে ১ কোটি মার্কিন ডলার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য সরবরাহ। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ভবিষ্যতে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে কোরিয়া আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ল্যান্স বোনো দক্ষিণ কোরিয়ার অব্যাহত সহমর্মিতার প্রশংসা করে বলেন, নতুন এ অনুদান ক্যাম্পের সংকটাপন্ন মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গারা এখনও পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। আইওএম বাংলাদেশের সিনিয়র মিডিয়া ও কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েট তারেক মাহমুদ জানান, ২০১৭ সালে সংকট শুরুর পর থেকেই কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করছে। শুধু চলতি বছরেই দেশটি আইওএমসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে মানবিক সহায়তায় দিয়েছে এক কোটি মার্কিন ডলার।