January 12, 2026, 2:32 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রার নাটকীয় সমাপ্তি

অনলাইন ডেস্ক :

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রায় ১৭ নভেম্বর তারিখটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৬৮ সালের এই দিনে তিনি পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে বিয়ে করেন। একই দিনে-দীর্ঘ বছর পর-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে। রায়ের সময় তিনি ছিলেন ভারতেই, যেখানে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি আশ্রয় নেন।

১৯৮১ সালে দিল্লি থেকে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন :
শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন ১৯৮১ সালে। সে সময় তিনি ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। দলীয় কাউন্সিলে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে দায়িত্ব নেন। দলের একাংশ তার মনোনয়নে আপত্তি তুললেও, শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হওয়ায় তিনি নেতৃত্বে আসীন হন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

দল পরিচালনা, বিরোধ ও সমালোচনা :
দলে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসিনা সংগঠন পুনর্গঠন শুরু করেন। সমালোচকদের দাবি, তিনি ধীরে ধীরে নিজের ঘনিষ্ঠ বলয় তৈরি করেন এবং দলীয় অনেক অভিজ্ঞ নেতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রত্যাশিত সাফল্য না মিললে তিনি কারচুপির অভিযোগ তোলেন। যদিও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেন নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু বলে মন্তব্য করেছিলেন-যা পরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টি করে।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক পথচলা :
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে হাসিনা এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন এবং নানা রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি এরশাদ সরকারের নির্বাচনে অংশ নিলেও পরে আবার বিরোধী জোটের সঙ্গে সম্মিলিত আন্দোলনে সক্রিয় হন।

টানা শাসন, মানবাধিকার ও নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ :
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিতকরণ এবং নির্বাচন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল
২. ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন
২. ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন
এসব ঘটনা নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে সমালোচনা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করে।একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক প্রভাবিত বলে বিরোধীরা অভিযোগ করে। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দণ্ডিত হন, যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বিতর্ক ছিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পতন :
২০২৪ সালে সরকারি নিয়োগবিধি ও বৈষম্যবিরোধী দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের একদফা দাবির মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং সে দিনই দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং জুলাইয়ের ঘটনাসহ সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।

ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায় :
নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি গণহত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত করেছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। রায়ের পর দেশে তার সম্পদ জব্দের নির্দেশও আসে।
হাসিনার অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা হলেও, তার আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকে রায়কে রাজনৈতিক ও প্রতিহিংসামূলক দাবি করা হচ্ছে।

দল ও রাষ্ট্রে প্রতিক্রিয়া :
হাসিনা দেশ ছাড়ার পর তার দলের বহু নেতা গা-ঢাকা দেন বা গ্রেপ্তার হন। কিছু এলাকায় জনরোষে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বাসভবন ও বঙ্গবন্ধুর স্মরণকেন্দ্রগুলোর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুরের খবরও পাওয়া যায়।

সংক্ষেপে :
এই প্রতিবেদনটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রা, ক্ষমতায় থাকা সময়ের বিতর্ক, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তার ক্ষমতাচ্যুতি এবং সর্বশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির একটি পুনর্গঠিত ও নিরপেক্ষ উপস্থাপন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *