নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের অংশ হিসেবে আয়রন রঙের নতুন ইউনিফর্ম চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদস্যরা নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের দেখা যাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া:
নতুন পোশাক নিয়ে বিভিন্ন মহলে তর্ক-বিতর্ক চলছে। অনেকেই মনে করছেন, পোশাকটি মানানসই নয় এবং দেখতে সিকিউরিটি গার্ডদের মতো। তাদের মতে, নতুন রং অপরাধীদের মনে আগের মতো ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব’ ফেলতে নাও পারে। অন্যদিকে, তরুণ-শিক্ষার্থীসহ অনেকেই পরিবর্তনটিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময়ের বিতর্কিত অতীত থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন পোশাক একটি ইতিবাচক শুরু হতে পারে।
বাহিনীর ভেতরে নতুন পোশাক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক পুলিশ সদস্য আগের রঙ পরিবর্তন হওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন। তাদের মতে, নতুন পোশাকে তারা আগের ‘নেতিবাচক ইমেজ’ ঝেড়ে নতুন উদ্যমে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তবে, উপ–পরিদর্শক ও ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, সব ইউনিটের ইউনিফর্ম একই রঙ হওয়ায় জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন হবে, যা মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট :
জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার পর বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেই প্রেক্ষাপটেই অন্তর্বর্তী সরকার নতুন ইউনিফর্ম অনুমোদন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে পুলিশের মনোবল বাড়ানো এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এসেছে।

ধাপে ধাপে বিতরণ চলছে :
ডিএমপির বড় অংশ এখনও নতুন পোশাক হাতে পায়নি; বিতরণ ধাপে ধাপে চলবে। জেলা পুলিশ ও রেঞ্জ পুলিশের কাছে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নতুন পোশাকের কাপড় ও রঙ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই কি না তা পরীক্ষা করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এপিবিএন ও এসপিবিএনের পুরোনো পোশাকই থাকবে।