অর্থনীতি ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমার সম্ভাবনার জল্পনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার চড়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ০.৭% বেড়ে ৪,১৪২.৬০ ডলার পৌঁছেছে, যা প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য স্বর্ণ ফিউচার ০.৭% বেড়ে ৪,১৪৯.২০ ডলার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরকার পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। এতে অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়া আবার শুরু হলে ফেডের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, সরকারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে অর্থনৈতিক ডেটা প্রবাহ ফের চালু হবে, যা ডিসেম্বর মাসে সুদ কমানোর প্রত্যাশা আরও দৃঢ় করতে পারে।
বর্তমানে ট্রেডাররা ডিসেম্বর মাসে এক চতুর্থাংশ পয়েন্ট হারে সুদ কমানোর ৬৪ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নসুদের পরিবেশে অ-সুদবাহী সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ সাধারণত ভালো করে।
ফেডের নীতিনির্ধারকেরা যদিও এখনও হার কমানো নিয়ে বিভক্ত, তবে ফেড গভর্নর স্টিফেন মিরান সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমানো যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অক্টোবর মাসে চাকরি কমেছে এবং নভেম্বরের শুরুর দিকে ভোক্তা মনোভাব নেমেছে তিন বছর ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে।
জুলিয়াস বেয়ার-এর বিশ্লেষক কার্স্টেন মেনকে বলেন, স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এখনো ‘মিস করার ভয়’ কাজ করছে, যা এই ধাতুগুলোর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
এদিন অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম বেড়ে প্রতি আউন্সে ৫০ দশমিক ৯৮ ডলার, প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৯০ দশমিক ৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ২.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৪৪ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে “মিস করার ভয়” এখনো কাজ করছে, যা স্বর্ণ ও রুপার বাজারকে ইতিবাচক রাখছে।