নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি একইসঙ্গে জুলাই সনদকে দ্রুত আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীকে কবজা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ, বিরোধী মত দমন এবং দেশে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের মানুষ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা গুম, গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষমতা স্থায়ী করার চেষ্টা করেছে। দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারসহ নানা দুর্নীতি ও অপরাধের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করেছে।”
শিবির নেতারা আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার রক্তাক্ত জুলাই জাগরণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। তবে এখনও সেই রক্তের দাগ শুকায়নি, আহতরা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ এখনো দেশের মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করছে।”
তাদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, “গণহত্যাকারীরা যেন মনে রাখে, শহীদদের উত্তরসূরিরা বেঁচে থাকায় দেশে কোনো অরাজকতা চলতে দেওয়া হবে না। যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে, ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” শিবিরের দাবিতে বলা হয়েছে, দেশে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য এবং জুলাই সনদ সেই অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, “কোনো দলীয় অবস্থানকে অগ্রাধিকার না দিয়ে, নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় জুলাই সনদকে দ্রুত আইনি ভিত্তি প্রদান এবং জনমত আদায়ের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা করা হোক।” ছাত্রশিবির ফ্যাসিবাদবিরোধী ও দেশপ্রেমিক সব শক্তিকে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।