জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সাপের উপদ্রব। শুধু তিন মাসেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩২২টি সাপ—এর মধ্যে ৩১৯টিই বিষধর। গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিনটি সাপ উদ্ধার করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর মধ্যে ৩১৯টিই বিষধর, এবং বেশিরভাগই পাওয়া গেছে বহুতল ভবন, নির্মাণাধীন ভবন, নিচতলা, গ্যারেজ ও এমনকি বাসার ছাদেও। বনশ্রী, আফতাবনগর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, উত্তরা, নিকেতন ও ক্যান্টনমেন্টসহ একাধিক এলাকায় এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
সাধারণ নাগরিকদের কাছে ঘটনাটি অবাক করার মতো হলেও বন্যপ্রাণী গবেষক ও সংরক্ষণকর্মীরা বলছেন, এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। তাদের মতে, এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার সরাসরি ফলাফল। ঢাকায় দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি ও জলাধার ধ্বংস, এবং নির্মাণকাজের বিস্তারের ফলে প্রাণীদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তার খোঁজে মানুষের বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসছে।
প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীরই একধরনের অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে। সাপও তার ব্যতিক্রম নয়। তারা উড়ে আসে না, বরং আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে ধীরে ধীরে ভবনের নিচতলা, পাইপলাইন, দেয়ালের ফাঁক বা গ্যারেজের ভেতর ঢুকে পড়ে। ঢাকায় ইঁদুরের ব্যাপক প্রাচুর্যও সাপকে টেনে আনে শহরমুখী করে তুলছে। বৃক্ষবাসী বা আধা-বৃক্ষবাসী প্রজাতির সাপগুলো গাছের ডাল ধরে ব্যালকনি বা জানালা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাপ *শীতল রক্তের প্রাণী, অর্থাৎ তারা নিজের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই মৌসুমভেদে তাদের কার্যক্রমের তারতম্য ঘটে। গরম ও আর্দ্র মৌসুম—বিশেষত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল—সাপের জন্য অনুকূল সময়। এ সময় তারা খাদ্যের সন্ধানে বা প্রজননকাজে বেশি সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে, শীতকালে ঠান্ডার কারণে তারা গর্তে বা নিরিবিলি জায়গায় আশ্রয় নেয়। তাই নির্দিষ্ট ঋতুতে সাপের দেখা মেলে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যেসব এলাকায় নতুন নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠছে বা নির্মাণ চলছে, সেখানে সাপের দেখা বেশি মিলছে। কারণ এসব স্থানে বনভূমি, জলাশয় ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল প্রায় বিলীন হয়ে গেছে*।
তারা সতর্ক করে বলেন, নগরায়ণের এই অস্থির ধারা অব্যাহত থাকলে তা শুধু সাপ নয়, পুরো নগরবাসীর জন্যও এক বড় পরিবেশগত সংকটে পরিণত হবে।