April 8, 2026, 11:34 am
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

রোহিঙ্গা নারীদের ৯৭ শতাংশই শিক্ষার বাইরে: বৈশ্বিক প্রতিনিধিদলের গভীর উদ্বেগ

রোহিঙ্গা নারীদের ৯৭ শতাংশই শিক্ষার বাইরে: বৈশ্বিক প্রতিনিধিদলের গভীর উদ্বেগ
রোহিঙ্গা নারীদের ৯৭ শতাংশই শিক্ষার বাইরে: বৈশ্বিক প্রতিনিধিদলের গভীর উদ্বেগ

জেডটিভি বাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর অল–এর নেতৃত্বাধীন বার্মা টাস্ক ফোর্স প্রতিনিধিদল। তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রোহিঙ্গা নারীদের প্রায় ৯৭ শতাংশই শিক্ষার বাইরে, যা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের এক বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিদলটি এই তথ্য প্রকাশ করে।প্রতিনিধিদলের এক বছরের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের জরিপে দেখা যায়— শিবিরে বসবাসরত স্কুলগামী রোহিঙ্গা শিশুদের ৫২ শতাংশ মেয়ে হলেও, তাদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষার আওতায় আছে।
প্রতিনিধিদল ১,০০০ রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকার, ক্যাম্পের স্কুল পরিদর্শন এবং প্রশাসন ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে।

তিনটি মূল সুপারিশ
স্মারকলিপিতে রোহিঙ্গা শিক্ষার টেকসই উন্নয়নের জন্য তারা তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে—
১️. রোহিঙ্গা শিক্ষার জন্য একটি একীভূত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন;
২️. উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে স্বীকৃত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু;
৩️.মার্কিন মুসলিম ত্রাণ সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে শিক্ষায় অর্থায়ন ও দক্ষতা ব্যবহার।

“সহানুভূতি দেখিয়েছে বাংলাদেশ, এবার দরকার টেকসই শিক্ষা” সংগঠনের সভাপতি ও বার্মা টাস্ক ফোর্স চেয়ারম্যান ইমাম আবদুল মালিক মুজাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ রোহিঙ্গাদের জন্য যে সহানুভূতি দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এখন সময় এসেছে একটি স্বীকৃত শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার, যাতে রোহিঙ্গা শিশুরা—বিশেষ করে মেয়েরা—ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত না হয়।”

তিনি জানান, আগে এই শিক্ষা কার্যক্রমে অর্থের বড় অংশ বিদেশ থেকে আসলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইউনিসেফকে অর্থায়ন করছে, যারা প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করে। তবে, এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অর্থায়নের ধারাবাহিকতা জরুরি বলে সতর্ক করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের সাবেক চেয়ার নাদিন মানজা বলেন, “কক্সবাজারে যেসব রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানে— শিক্ষাই তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের একমাত্র চাবিকাঠি। কিন্তু শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ।”

তিনি জানান, প্রায় ৫ লাখ স্কুলগামী শিশুর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার এখন স্কুলবিমুখ। সংকীর্ণ পরিবেশ, অনিশ্চিত অর্থায়ন ও অপর্যাপ্ত শিক্ষকসংখ্যার কারণে অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। তার মতে, “শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রজন্ম অনিশ্চয়তা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়াবে; কিন্তু শিক্ষিত প্রজন্মই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।” অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মুখপাত্র রিচার্ড রিওচ বলেন, “যেভাবে খাদ্য ও পানি মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা, ঠিক তেমনি শিক্ষা রোহিঙ্গা তরুণদের মানসিক পুনরুদ্ধারের জীবনরক্ষাকারী উপায়। গণহত্যা তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করলেও শেখার আকাঙ্ক্ষা নিভিয়ে দিতে পারেনি।”

প্রতিনিধিদল শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানের দপ্তরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে জানায়, তার নেতৃত্বে রোহিঙ্গা নেতা, জাতিসংঘ সংস্থা ও এনজিওগুলোর সঙ্গে একীভূত শিক্ষা কাঠামো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। প্রতিনিধিদলের মতে, রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। তারা সতর্ক করেছেন— এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে একটি “অশিক্ষিত ও বিপন্ন প্রজন্ম” গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে মানবিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *