January 13, 2026, 6:29 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

‘‘আপনি বেশি কথা বলেন, আদালত বিব্রত হয়’—রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে রাষ্ট্রনিযুক্ত এক আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আইনজীবী মো. আমির হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি বেশি কথা বলেন। এমন এমন কথা বলেন যা আদালতের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।” এদিন জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় দুইজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, যিনি বর্তমানে পলাতক। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সোমবার তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আক্তার নিহা। সাক্ষ্য শেষে আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহানের পর তাকে জেরা শুরু করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। জেরার একপর্যায়ে তিনি সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনার স্বামীকে কে গুলি করেছিল, আপনি কি দেখেছেন?”
প্রসিকিউশন সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানায়—এই প্রশ্ন আগেও করা হয়েছিল। এরপর ট্রাইব্যুনাল আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “এতে আপনার লাভ কী হবে? তার স্বামী মারা গেছেন—এটাই প্রমাণ। তাছাড়া আপনার আসামিদের নামও বলেননি তিনি।”

আইনজীবী আমির হোসেন জবাবে বলেন, “মাই লর্ড, লাভের হিসাব অনেক দীর্ঘ। এ প্রশ্নে আমার আসামিদের উপকার হতে পারে।” এসময় আরও যুক্তি দেখাতে গেলে ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনি এমনভাবে কথা বলেন যা আদালতকে বিব্রত করে। তিনি একজন ভুক্তভোগী। তার সাক্ষ্যে আপনার আসামিরা মুক্তি পাবেন না।” পরে ট্রাইব্যুনাল যোগ করে, “আমরা যদি ভুল করি, আপিলের সুযোগ তো আছেই। এই সাক্ষ্যটা নেওয়া হচ্ছে, কারণ তিনি মৃত ব্যক্তির স্ত্রী—একজন হেয়ারসে সাক্ষী।”

এরপর আমির হোসেন ‘জ্বি মাই লর্ড’ বলে সম্মতি জানান এবং জেরা শেষ করেন। এদিন বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে সাক্ষী নিহা তিন বছরের ছেলে আনাস বিন নাদিমকে সঙ্গে নিয়ে সাক্ষ্য দিতে ডায়াসে ওঠেন। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই স্বামী হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম, সঙ্গে ছিলেন ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও সাইমুম রেজা তালুকদার।

মামলায় একমাত্র গ্রেফতার আসামি রামপুরা ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। অন্য চার আসামি পলাতক—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ১০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *