জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা লিওনেল মেসি চেয়েছিলেন সৌদি প্রো লিগে চার মাস খেলতে—শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। কিন্তু সৌদি আরব দৃঢ়ভাবে তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।
সৌদি পডকাস্ট থমানিয়া-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহদ ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট একাডেমির জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ হাম্মাদ জানান, “গত গ্রীষ্মে মেসির টিম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা চেয়েছিল, এমএলএস মৌসুমের চার মাসের বিরতিতে মেসি সৌদি আরবের কোনো ক্লাবে খেলুক। মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিটনেস ধরে রাখা।”
হাম্মাদ বলেন, প্রস্তাবটি তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পাঠান। কিন্তু সেখান থেকেই আসে স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান।
মন্ত্রী নাকি বলেন, “সৌদি প্রো লিগ কোনো প্রস্তুতি বা ট্রেনিং গ্রাউন্ড নয়। এটি এমন এক প্রতিযোগিতা, যেখানে প্রতিভাবান ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দিতে চান। মেসির চার মাসের অস্থায়ী প্রস্তাব তাই গ্রহণযোগ্য নয়।”
হাম্মাদের মতে, সৌদি লিগ এখন আর কেবল ‘বয়সী তারকাদের শেষ আশ্রয়স্থল’ নয়—বরং এটি গড়ে উঠছে একটি টেকসই ফুটবল ইকোসিস্টেম হিসেবে। তারা চায় লিগটিকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে, যেখানে তারকারা আসবেন মর্যাদার টানে, সাময়িক আলোয় নয়।
এই সিদ্ধান্তে বোঝা যায়, সৌদি ফুটবল এখন আত্মবিশ্বাসী এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। রোনালদো, নেইমার, বেনজেমা, কান্তেদের মতো তারকারা যোগ দেওয়ার পরই বদলে গেছে এর চেহারা।
২০২২ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আল নাসরে যোগ দেন, যা সৌদি ফুটবলের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সম্প্রতি তার চুক্তি নবায়ন হয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমার পরিবার এখানে সুখে আছে। সৌদি জনগণ আমাদের যেভাবে গ্রহণ করেছে, তা অবিশ্বাস্য। আমি শুধু ফুটবলের জন্য নয়, এই দেশের বিকাশের অংশ হতে চাই।”
অন্যদিকে মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত নবায়িত চুক্তি অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরো, বোনাসসহ যা দাঁড়ায় প্রায় ১৭ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে আছে অ্যাপল ও অ্যাডিডাসের অংশীদারিত্ব, এমনকি এমএলএস-এর স্ট্রিমিং রাজস্ব থেকেও তিনি আয় করছেন।
চার মাসের জন্য সৌদিতে খেলতে চাওয়া মেসির পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার—সৌদি প্রো লিগ এখন শুধু তারকার নাম নয়, নিজস্ব মর্যাদা নিয়েও লড়ছে বিশ্বমঞ্চে।