April 7, 2026, 3:04 am
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

ওয়ারী জোনের ডিসি বলেছিলেন ‘গুলি করি মরে একটা, বাকিরা যায় না’: রাজসাক্ষী মামুনের জবানবন্দি

ওয়ারী জোনের ডিসি বলেছিলেন ‘গুলি করি মরে একটা, বাকিরা যায় না’: রাজসাক্ষী মামুনের জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্দোলন দমনে সরকারের পরিকল্পনা ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনার বিষয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এ জবানবন্দি দেন।

‘গুলি করি একজন মরে, বাকিরা যায় না’

মামুন জানান, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে অবস্থান করেন তারা। সে সময় ওয়ারী জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান। ভিডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, “গুলি করি একজন মরে, একজন আহত হয়। সেই যায়। বাকিরা যায় না।”

গণভবনের বৈঠক ও নির্দেশনা

মামুনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা সমন্বয় কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলন দমন কৌশল নিয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি অবনতির কারণে বৈঠক মুলতবি করা হয়। রাতেই আবার বৈঠক ডেকে ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে পুলিশ-সেনাবাহিনীর সমন্বিত অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়।

মামুন জানান, ১৮ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফোনে জানান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকেই সারা দেশে পুলিশকে লেথাল উইপেন ব্যবহারের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব ও অতিউৎসাহ

তার দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মেয়র ফজলে নূর তাপস, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচিত করেছিলেন। এ ছাড়া, আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও ব্যবসায়ীরাও আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন।

অনুশোচনা প্রকাশ

জবানবন্দিতে মামুন আরও বলেন, আন্দোলন দমনের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে হতাহতের ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত। “এসব ঘটনার জন্য অপরাধবোধ করছি। স্বজন হারানোদের কান্না শুনে ও নৃশংসতার ভিডিও দেখে বিবেকের তাড়নায় রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *