June 4, 2026, 7:49 pm
Headline :
সোনাইমুড়িতে মাদক সিন্ডিকেট বাঁচাতে মরিয়া চক্র: বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে স্থানীয় নেতাকে সোনাইমুড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রেমের টানে সীমানা পার! জামালপুরের লিমার সাথে শেরপুরের মিলনের পরকীয়া নিয়ে তোলপাড়। নোয়াখালীতে সাংবাদিক গুলজার হানিফকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকির সোনাইমুড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: থানায় মামলা মনোনয়ন দৌড়ে নোয়াখালীর তিন নারী নেত্রী: আলোচনায় শাহীনুর সাগর ও শাহনাজ পারভিন বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা

ইবি শিক্ষিকা সাদিয়া হত্যাকাণ্ড: বদলি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই কি এই নৃশংসতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া |

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্তব্ধ গোটা ক্যাম্পাস। নিজ কার্যালয়ে পিয়ন ফজলুর রহমানের হাতে নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন এই শিক্ষিকা। ঘাতক কর্মচারী নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা নিয়ে জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

যেভাবে ঘটল সেই রোমহর্ষক ঘটনা

গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আনসার সদস্যদের বর্ণনা মতে, কক্ষের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষিকা সাদিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পাশে ঘাতক ফজলু নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারণ কী?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তবে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যে একটি বিশেষ কারণ জোরালো হয়ে উঠেছে। সেটি হলো— ‘কর্মস্থল বদলিজনিত ক্ষোভ’

  • বিভাগ পরিবর্তন: জানা গেছে, ফজলুর রহমান ওই বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ‘ডেইলি বেসিস’ বা দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি তাকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।
  • মানসিক অসন্তোষ: শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে এই বদলির আদেশ হলেও ফজলু তা মেনে নিতে পারছিলেন না। তার ধারণা ছিল, বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে আসমা সাদিয়া রুনার কারণেই তাকে সরানো হয়েছে।
  • পূর্ব শত্রুতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান জানান, বদলি সংক্রান্ত বা অন্য কোনো বিষয়ে ইতিপূর্বে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে ফজলুর কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সেই রেষারেষি থেকেই এই ভয়াবহ পরিণতির পরিকল্পনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

ইবি থানার ওসি এবং প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ফজলু বর্তমানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি ও র‍্যাবের ফরেনসিক টিম।

“আমরা ভাবতেও পারিনি একজন কর্মচারী তার উর্ধ্বতন শিক্ষকের ওপর এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে। বিভাগীয় রদবদল প্রশাসনের নিয়মিত কাজ, কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে এমন নৃশংসতা নজিরবিহীন।” — মাহমুদ, সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *