নিজস্ব প্রতিবেদক, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানের আগেই পুলিশের সোর্সরা মাটিখেকোদের তথ্য পাচার করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাকক্ষে আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “মাটিখেকোরা আগে থেকেই পুলিশকে সময় জানিয়ে দেয় কখন মাটি কাটবে। এসিল্যান্ড বা ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়। ফলে স্পটে কাউকে পাওয়া যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, এক-দুই লাখ টাকা জরিমানাকে মাটিখেকোরা এখন ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে ধরে নিয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে থানার কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত।
দেবিদ্বার থানার ওসির উপস্থিতিতেই কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে এমপি হাসনাত বলেন, “ওসি আন্তরিক হলেও তাঁর কিছু কর্মকর্তা ‘ফুললি করাপ্টেড’ (পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত)। সেকেন্ড অফিসার মতিন ও এসআই ভবতোষ টাকা ছাড়া এক কদম পা ফেলে না। আমি প্রমাণ নিয়েই বলছি।”
থানায় দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ তুলে এমপি ওসির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, “থানা আপনি চালান না থানা চালায় হেলাল?” তিনি অবিলম্বে থানাকে ‘হেলাল বাহিনী’ ও দালালমুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং সাধারণ মানুষ যেন সরাসরি ওসির সঙ্গে কথা বলতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
গোমতী নদীর দেবিদ্বার অংশে পাঁচটি স্পটের একটিতেও যেন আর এক কোদাল মাটি কাটা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এরপরও মাটি কাটা হলে ধরে নেওয়া হবে প্রশাসনই তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সভায় দেবিদ্বার নিউ মার্কেট এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ীদের দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।