January 7, 2026, 11:04 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

যেভাবে ‘পুতুল’ হলো খালেদা জিয়ার ডাকনাম

যেভাবে ‘পুতুল’ হলো খালেদা জিয়ার ডাকনাম

অনলাইন ডেস্ক,

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের পেছনে যেমন আছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, তেমনি রয়েছে শৈশবের এক স্নেহভরা নাম- ‘পুতুল’। পারিবারিক এই নামটি পরবর্তী সময়ে তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ডাকনাম হয়ে ওঠে।

১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী খালেদা খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জিয়াউর রহমান। বিয়ের পর স্বামীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি গ্রহণ করেন ‘খালেদা জিয়া’ নামটি, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়।

দলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম সাল ১৯৪৬। তবে ‘নন্দিত নেত্রী: খালেদা জিয়া’ বইয়ে তাঁর সাবেক উপ-প্রেসসচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ লেখেন, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির নয়াবস্তিতে তাঁর জন্ম।

খালেদা জিয়ার শৈশব কেটেছে দিনাজপুরের বালুবাড়ীর ‘তৈয়বা ভিলা’ বাড়িতে। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের তিন মেয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। পারিবারিকভাবে তাঁর নাম ছিল ‘খালেদা খানম’। ভালোবেসে তাঁকে ডাকা হতো ‘পুতুল’ নামে। আরও কয়েকটি ডাকনাম ছিল-‘টিপসি’ ও ‘শান্তি’। পরিবারের চিকিৎসক বন্ধু অবনীগুহ নিয়োগী নবজাতককে ‘শান্তি’ বলে ডাকলেও শেষ পর্যন্ত মেজো বোন সেলিনা ইসলামের রাখা ‘পুতুল’ নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়।

খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি ছিল ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। পরিবারের তিন বোন- খুরশিদ জাহান হক (চকলেট), সেলিনা ইসলাম (বিউটি) ও খালেদা খানম (পুতুল); দুই ভাই মেজর সাঈদ ইস্কান্দর ও শামীম ইস্কান্দর। বর্তমানে জীবিত আছেন বোন সেলিনা রহমান ও ভাই শামীম ইস্কান্দর। দুই সন্তান তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী তিনি।

স্বামী জিয়াউর রহমানের বধূ হিসেবেই জীবনের বড় একটি সময় কাটালেও ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৩ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর নেতৃত্বেই দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে।

খালেদা জিয়ার জীবন শুধু রাজনীতির ইতিহাস নয়- পারিবারিক একটি আদরের নাম ‘পুতুল’-এর গল্পও বহন করে, যা আজও তাঁর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *