জেডটিভি বাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা আজ তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হলো।
১৯৮১ সালে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কঠিন পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে প্রবেশ করা খালেদা জিয়া মে মাসে ৪১ বছর পূর্ণ করেছিলেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কেবল একটি দলকে সুসংগঠিত করেননি, তিনবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাতেও আসীন হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ গৃহবধূ থেকে উঠে এসে রাজপথের আপসহীন নেত্রী হওয়া খালেদা জিয়ার গল্প বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত।
বিএনপির তথ্যানুসারে, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৮৩ সালের মার্চে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হন, ১৯৮৪ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর ৪১ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের নেতৃত্বে ছিলেন।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—তিনি একও সংসদীয় আসনে পরাজিত হননি।
আন্তর্জাতিকভাবে খালেদা জিয়ার সাফল্যও অসামান্য। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে তার অবদান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তিনি ২৯তম স্থানে ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হয় গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দুটি বিতর্কিত মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দুই বছরেরও বেশি সময় কারাভোগ করেন। ২০২০ সালে করোনার সময় নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হয়ে গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবনে শর্তসাপেক্ষে থাকার অনুমতি পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হন।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান। ১১৭ দিনের চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরার পর বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থ থাকেন। আজ ভোর ৬টায় তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে।