নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) নামে এক তরুণকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলায় তার দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর দুই সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আহত সিজু শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। রাজ্জাক স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক এবং উমরপুর ঘাটে তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। তারা কোনো পদে না থাকলেও জামায়াতের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
পরিবারের অভিযোগ, প্রেমঘটিত একটি বিরোধের জের ধরে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উমরপুর ঘাট এলাকায় কয়েকজন মিলে সিজুকে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে শয্যাশায়ী সিজু অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেড় ঘণ্টা ধরে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা তাকে কুপিয়েছে। এদিকে, তার বাবার করা মামলায় নাম উল্লেখ করে তিনজন এবং অজ্ঞাত আরও ১২–১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং হামলার অভিযোগে ধরা হয়েছে—এটি রাজনৈতিক মামলা নয়। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে দাবি উঠেছে—আবু সুফিয়ান সিজু নাকি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি–ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবিতে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্যমঞ্চ’-এর ব্যানারে মানববন্ধনও হয়েছে।
জামায়াতের প্রতিবাদ
হামলার ঘটনাকে ঘিরে জামায়াতের নাম জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াত। সংগঠনের আমির ও সেক্রেটারি বলেন, ঘটনাটি “রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” উপস্থাপন করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন—গ্রেপ্তার হওয়া দুজন সমর্থক হলেও হামলায় জড়িত নন, বরং সিজুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোপাল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।