নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্তকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলটির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে আদর্শগত আপত্তি তুলে অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক মীর আরশাদুল হক। শনিবার নিজের পদ ছাড়েন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। দলীয় সূত্র বলছে—আরও কয়েকজন নেতা পদত্যাগের প্রক্রিয়ায় আছেন।
চিঠিতে নেতারা অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং দলের ঘোষিত আদর্শের পরিপন্থী হবে। ১৯৭১ সালের ভূমিকা, গণহত্যা ইস্যুতে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আচরণের কারণে জামায়াতের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা এনসিপির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
তাদের দাবি, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপি ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার কথা বলেছিল। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি ও ১২৫ প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর অল্প কিছু আসনের জন্য সমঝোতা “জাতির সঙ্গে প্রতারণা” হবে।
এদিকে, তাসনিম জারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। প্রার্থিতা বৈধ করতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহে সহায়তা চান তিনি। ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ওঠা অর্থ ফেরত দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান সুদৃঢ় করতে বড় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ভাবনা জোরালো হয়। একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াতের সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্যও মিলেছে দলীয় মহলে, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে এনসিপির অভ্যন্তরে মতবিরোধ চরমে। নির্বাহী কমিটির কয়েকটি বৈঠকে আহ্বায়ক–সদস্যসচিবসহ অনেকেই সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিলেও প্রায় ৩০ জন সদস্য প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন। তারা মনে করেন, স্বতন্ত্র পরিচয় হারালে এনসিপির রাজনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন—এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়, বরং আসনভিত্তিক আলোচনা। আর এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সমঝোতার পথ খোলা রাখা হয়েছে।