নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট ব্যয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
বৈঠকে আলোচিত মূল বিষয়গুলো:
মূল্যস্ফীতি: দেশের ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি নভেম্বর ২০২৫-এ ৮.২৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুন ২০২৩ এর পর সর্বপ্রথম ৯ শতাংশের নিচে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছসাধনের ফলে জুন ২০২৬-এ এটি ৭ শতাংশের নিচে নামবে।
মজুরি প্রবৃদ্ধি: চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির পার্থক্য কমে এসেছে। নভেম্বর ২০২৫-এ যথাক্রমে ৮.২৯ ও ৮.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে মানুষের প্রকৃত আয় ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি উৎপাদন: বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন ভালো অবস্থায় আছে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন পৌঁছেছে ১৬০.৯৫ লাখ টন, যা চলতি বছরের খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট।
অর্থনৈতিক ভারসাম্য: দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক ইতোমধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এসেছে।
বৈদেশিক ও আর্থিক খাত: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। প্রবাসী আয়ও ১৭.১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, চলতি জুলাই-নভেম্বর সময়ে ১৩.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।
চলতি হিসাব ও আমদানি: দীর্ঘদিন ঋণাত্মক থাকা চলতি হিসাব এখন মাত্র -১৩৯ মিলিয়ন ডলারে এসেছে। আমদানি প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক হয়েছে, জুলাই-নভেম্বরে ৬.১% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
ঋণপত্র ও শিল্প উৎপাদন: মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি সহজতর হওয়ায় ঋণপত্র খোলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে আশা প্রকাশ করেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। বৈঠক থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ও সুষম অবস্থায় পৌঁছেছে এবং সামনের বছরগুলোতে আর্থিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।