নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় র্যাব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বোনের বাসার পাশ থেকে দুটি ম্যাগজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফয়সালের বাবা ও মা সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখা মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসা ও পাশের ফাঁকা স্থান থেকে দুটি ভরা ম্যাগজিন, ১১টি গুলি এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় একটি ট্যাব, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি পুরনো বাটন ফোন, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, ১৫টি ব্যাংকের চেকবই, ৬টি পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৮টি চেক।
র্যাব জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর ঘটনার দিন সকাল ১১টায় মোটরসাইকেলে বাসা থেকে বের হন। বিকেল ৪টার দিকে ফয়সাল, আলমগীর, ফয়সালের মা ও ভাগিনাকে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে কিছু বের করতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলে যান।
এদিকে নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল (২৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। এসময় তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই জানা যাবে, এর কোনোটি দিয়ে হাদিকে গুলি করা হয়েছে কি না। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নরসিংদী সদর থানার তরুয়া এলাকায় পানির মধ্যে পাওয়া যায়।
ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোছা. হাসি বেগম (৬০)-কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ভোর সাড়ে ৫টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি ফয়সাল, তার বাবা ও মা আটক হন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফয়সাল ঢাকার আগারগাঁওয়ে তার বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলা বাসায় প্রায়ই যাতায়ত করতেন। ঘটনার দিন রাতেও একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন এবং পরে সরু স্থানে ফেলে দেন। তিনি দুটি মোবাইলের একটি ফেলে দেন এবং অন্যটি মা হাসি বেগমকে দেন। নিরাপদ মনে না হওয়ায় মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান।
গত শুক্রবার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়, যা তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।
মামলা পরিবারের সম্মতিতে রোববার রাতে পল্টন থানায় দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবি’র তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক এবং সহায়তার অভিযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুইজন গ্রেফতার হয়েছেন।