নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, রুল অব ল, ডিউ প্রসেস এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের বাইরে দেশের মুক্তির কোনো বিকল্প পথ নেই। শর্টকাট পদ্ধতিতে কখনোই টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘদিন ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. তাসনিম জারা বলেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—সংসদ, স্বাধীন গণমাধ্যম, নির্বাচন কমিশন এবং বিচার বিভাগ। তবে রাজনীতিবিদরা যদি এসব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ সম্মান না করেন, তাহলে সেগুলো কখনোই শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিষ্ঠানকে সম্মান দেওয়ার অর্থ তাদের সব আচরণ বা বক্তব্য প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেওয়া নয়। বরং নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
পোস্টে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তুলে ধরেন—
ডিউ প্রসেস ও বিচার ব্যবস্থা:
ডা. তাসনিম জারা বলেন, কেউ অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতের সিদ্ধান্তে অনিয়ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো দলের পক্ষে অস্বাভাবিক হারে জামিন দেওয়ার মতো প্রবণতা থাকলে সেটির প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা:
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মান দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপ বা অবমূল্যায়নের কারণে নির্বাচন কমিশন কখনো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। তবে কমিশন যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অস্বীকার করে বা সহিংস ঘটনাকে তুচ্ছ করে দেখায়, সেক্ষেত্রে নাগরিকদের অবশ্যই প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তুলতে হবে।

স্বাধীন গণমাধ্যম:
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়ার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বা মিডিয়া হাউজ বন্ধ করা গণতান্ত্রিক সমাধান নয়। তবে গণমাধ্যম যদি ভুল তথ্য ছড়ায় বা ফ্যাসিবাদী ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি মোকাবিলা করতে হবে তথ্য, সত্য ও ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের মাধ্যমে।
ডা. তাসনিম জারা আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান রাতারাতি ঠিক হয়ে যাবে না। কিন্তু আবেগের পরিবর্তে প্রমাণভিত্তিক সমালোচনা ও নিয়মতান্ত্রিক চাপ অব্যাহত থাকলে একটি কার্যকর ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়বে।